সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মধ্যরাতে কলকাতায় চলল গুলি (Kolkata Shootout)। বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় বন্ধুর ফ্ল্যাটে গিয়ে এলোপাথাড়ি গুলিতে খুন তৃণমূল কর্মী। মৃত ওই যুবকের নাম রাহুল দে। ঘটনায় গুরুতর আহত জিৎ মুখোপাধ্যায় বলে আরও এক যুবক। মধ্যরাতে বাঘাযতীনের (Baghajatin) মতো এলাকায় গুলির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাটুলি থানার পুলিশ। কেন গুলি তা জানতে দফায় দফায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হচ্ছে। তবে তদন্তে প্রাথমিক অনুমান, জুয়ার টাকা নিয়ে বচসার জেরেই এই ঘটনা।
ধৃত চারজনের নাম দ্বীপ রায় ওরফে পুকাই (৩৩), বিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭), রাজা বনিক (৩৬) এবং জয়ন্ত ঘোষ। ধৃত চারজনের বাড়ি নরেন্দ্রপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ব পরিচিত ধৃত চারজন। শুধু তাই নয়, ধৃতরা সবাই জিতের জুয়া খেলার সঙ্গী বলেও খবর। বুধবার রাতে বাঘাযতীনে জিতের ফ্ল্যাটের ছাদে জুয়ার আসর বসেছিল। সেখানেই বুধবার রাতে রাহুলকে ডেকে পাঠানো হয়। জুয়ার পাশাপাশি রাত পর্যন্ত চলে দেদার মদ্যপান। আর সেই সময়েই হঠাৎ করে ওই বহুতলের ছাদে হাজির হন ধৃত চারজন। চলে এলোপাথাড়ি গুলি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাহুল দের। ঘটনায় গুরুতর আহত হন জিৎ মুখোপাধ্যায়ও। পুলিশের দাবি, এর আগেও স্থানীয় থানায় জিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। যদিও পুরো ঘটনা পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই খবর।
মৃত তৃণমূল কর্মী রাহুল দে।
তবে তদন্তে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দীর্ঘসময় জিৎ এবং রাহুলের যোগাযোগ ছিল না। তাহলে বুধবার রাতে কেন রাহুলকে ডেকে পাঠালেন জিৎ সেটাও ভাবাচ্ছে পুলিশকে। ফলে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একেবারে জোরকদমে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকায় থাকা সিসিটিভিগুলিও। এমনকী আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে খবর।
