অর্ণব আইচ: ‘উধোর ছবি বুধোর মুখে।’ এই পদ্ধতিতেই প্যান কার্ডে কারচুপি করে একাধিক ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে দু’কোটি টাকা। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলিতে জাল ছড়িয়েছে ব্যাংক জালিয়াতি চক্র। রবিবার এই জালিয়াতি চক্রের এক পান্ডা গ্রেপ্তার হয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে। শুভময় মিত্র নামে ওই যুবককে জেরা করে এবার এই চক্রের সন্ধান চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। এই চক্রে কয়েকটি ব্যাংকের কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২০ সালে লকডাউনের সময় থেকেই শুরু হয় এই জালিয়াতি। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শহরের এক বাসিন্দার কাছে এক একটি ব্যাংক মেসেজ পাঠিয়ে বেশ কয়েক হাজার টাকা ইএমআই চায়। প্রথমে ওই ব্যক্তি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তাঁর কাছে ইএমআই চেয়ে মেসেজ আসতে শুরু করে। এমনকী, টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ব্যাংক জানান। এবার তিনি ব্যাংকে গিয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে বলা হয় যে, তিনি চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না। তাই তাঁকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।
[আরও পড়ুন: গেরুয়া বিতর্কের মাঝে মেয়র ফিরহাদের বাড়িতে অরিজিৎ সিং, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা]
হতবাক হয়ে ওই ব্যক্তিটি জানান, তিনি কোনও ঋণই নেননি। যে প্যান কার্ডের ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, তার ফটোকপি তাঁকে দেখানো হয়। তিনি পালটা নিজের প্যান কার্ডটি ব্যাংককে দেখান। দেখা যায়, ওই ব্যক্তির প্যান কার্ডের উপর অন্য এক ব্যক্তির ছবি বসিয়ে তার ফটোকপি করানো হয়েছে। আর তারই ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে ঋণ। ফলে ছবি আলাদা হলেও আসল প্যান নম্বরটি যাঁর, তাঁর কাছ থেকেই ঋণের টাকা ব্যাংক ফেরত চাইছে। এই ব্যাপারে ওই ব্যক্তি তথা ব্যবসায়ী এই ব্যাপারে গত ৭ নভেম্বর মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। লালবাজারের গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করে জানতে পারেন যে, প্যান কার্ড কারচুপি করে অন্তত ৫০ জনকে ঋণের নামে ব্যাংক জালিয়াতি করেছে এই চক্রটি। এখনও পর্যন্ত ২ কোটি ১২ লাখ ৫০০ টাকা জালিয়াতির খবর পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের মতে, কয়েকজন ব্যাংক কর্মীর সাহায্যে এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে টানা তদন্তের পর গোয়েন্দারা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তল্লাশি চালিয়ে শুভময় মিত্রকে গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও অন্তত চারজন এই চক্রে রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের অভিযোগ। চক্রের পান্ডারা ব্যাংককর্মীদের মাধ্যমেই ওই প্যানকার্ডগুলি সংগ্রহ করত বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ব্যাংক জালিয়াতি চক্রের বাকিদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
