মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া দেশজুড়ে। বুধবার সকালে বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু (Ajit Pawar Death) হয়। আর এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই জাতীয় রাজনীতিতে শোকের ছায়া। এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী মহাজুটি জোট ছেড়ে অজিত পওয়ারের বেরিয়ে আসতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছিল। সে কথা এদিন উল্লেখ করে দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই অজিত পওয়ারের মৃত্যু নিয়ে বলেন, ''এই খবরে আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তা হলে দেশের জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে যায়।” গোটা ঘটনায় নিরাপত্তা এবং প্রত্যেকদিন মনিটারিংয়েরও দাবি তোলেন প্রশাসনিক প্রধান।
শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, ''সমাজমাধ্যমে একটি সূত্রে জানতে পেরেছিলাম, বিরোধী কোনও নেতা বলেছিলেন বিজেপি ছাড়তে চেয়েছিলেন অজিত পওয়ার। সেই পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা খুবই সন্দেহজনক'' ফলে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত তদন্তের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে অন্য কোনও এজেন্সির তদন্তে যে তাঁর ভরসা নেই তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন।
প্রশাসনিক প্রধান বলেন, '' আমি অন্য কোনও এজেন্সির তদন্ত চাই না। টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে সমস্ত এজেন্সিগুলি।'' এই অবস্থায় ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের উপরেই আস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলে রাখা প্রয়োজন, প্রায় বছর তিনেক আগে শরদ পওয়ারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের দল গড়েন অজিত পওয়ার। আইনি যুদ্ধে জিতে এনসিপির ঘড়ি প্রতীকও যায় তাঁর দখলে। গতবছর লোকসভা নির্বাচনে কিন্তু শরদ পওয়ার ভাইপোকে টেক্কা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যায় অজিত পওয়ারের শিবির যেখানে ৪১টি আসনে জিতেছে, সেখানে শরদের দল পেয়েছে ১০টি আসন। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, দুই এনসিপি মিলে যেতে চলেছে।
এর মধ্যেই গত এক কয়েকমাস আগে সাংবাদিক বৈঠকে অজিত পওয়ারকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনার মুখে ‘ঘি-শক্কর’।” অর্থাৎ আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক। অজিতের ওই মন্তব্যেই দুই এনসিপি শিবিরের মিলে যাওয়ার জল্পনা আরও গতি পায়। শুধু তাই নয়, শরদ পওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলে এবং অজিত পওয়ার নিজেদের মধ্যে দুই দলের সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন বলেও শোনা যায়। এমনকী বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজুটি জোটের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বলেও জল্পনা সামনে আসে। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
