শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গের নির্বাচন। এতদিন অস্ফুটে সোশাল মিডিয়া বা দক্ষিণপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের তরফে এই প্রচার করা হচ্ছিল। বঙ্গ জয়ের পর এবার খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) মুখে সেই জাতীয় সুরক্ষার প্রসঙ্গ। তিনি বলে গেলেন, "দেশের সুরক্ষার সঙ্গে কোনওরকম আপস নয়। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করা হবে।"
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি মূল ইস্যুই ছিল অনুপ্রবেশ। প্রায় প্রতিটি সভায় সীমান্ত সিল করা, অনুপ্রবেশকারীদের বিতড়নের কথা শোনা গিয়েছে অমিত শাহের মুখে। ভোটের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর প্রথম ভাষণেই শাহের মুখে ফের উঠে এল সেই অনুপ্রবেশকারীদের কথা। অমিত শাহ সাফ বলে দিলেন, যে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বাংলায় তাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সোনার বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ঠাঁই নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, "বাংলার মানুষকে আমি কথা দিচ্ছি আগামী পাঁচ বছরে দেশ থেকে খুঁজে বের করে করে তাড়াব।"
বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অমিত শাহ। নিজস্ব চিত্র
অনুপ্রবেশ বাংলার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই অনুপ্রবেশকারীদের উৎপাত বেড়েছে বঙ্গে। পালটা তৃণমূলের দাবি ছিল, সীমান্তরক্ষায় বিএসএফের ব্যর্থতাই অনুপ্রবেশের কারণ। সমস্যা হল, ওই অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তে রুখে দেওয়ার জন্য সীমান্ত সিল হওয়া জরুরি। কিন্তু এতদিন জমি সমস্যায় সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস, "এবার বাংলার সীমান্ত সিল হবেই। সব অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে তাড়ানো হবে।"
শাহের কথায়, জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে কোনওরকম আপস নয়। অনেকে অভিযোগ করেন, বিজেপি এই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুটা তোলে শুধু মেরুকরণের জন্য। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, "মেরুকরণ নয়, বিজেপি এই অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলে শুধু জাতীয় সুরক্ষার জন্য। জাতীয় সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না।" শাহের সাফ কথা, অনুপ্রবেশকারীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে থাকতে দেব না বাংলাকে।
