ভোটের আগে বাংলায় পা রেখে নরেন্দ্র মোদি 'শ্যামাপ্রসাদের বাংলা বানানোর' শপথ নেন। গত ৪ মে, সেই অঙ্গীকার পূরণ হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়ে প্রথমবার বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। রাত পোহালেই শপথ। তার আগে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠানে আবেগে ভাসলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। বাংলায় সরকার গঠন করতে পারায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মোদিকে আশীর্বাদ করছেন বলেই মত তাঁর।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জনসংঘ। সেটাই আজকের বিজেপির ভিত্তিপ্রস্তর। আর তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বলা হয় ‘বিজেপির জনক’। সেই মানুষটির স্বপ্নই যেন পূরণ করলেন মোদি-শাহ। যাঁর প্রধান স্বপ্ন ছিল ‘এক দেশ, এক নিশান, এক বিধান’। সেই স্বপ্ন অবশ্য আগেই পূরণ হয়েছিল। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিল হয়। জম্মু ও কাশ্মীর হয়ে যায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। যা ছিল শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন। তিনি বারবার বলেছিলেন ওই ধারা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে আরও সমস্যা বাড়বে। এখানেই শেষ নয়। শেষপর্যন্ত কাশ্মীরে অভিযান করেন তিনি। ৩৭০ ধারা বিলোপ ও পারমিটরাজ বাতিলের দাবিতে ১৯৫৩ সালের ১১ মে পাঞ্জাবের উধমপুরে সভা করার পর তিনি কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা হন। এরপরই তাঁর গ্রেপ্তারি। এবং ২৩ জুন রহস্যমৃত্যু। এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও রয়েছে, সেই মৃত্যুর নেপথ্যে নাকি কংগ্রেসের ‘হাত’ রয়েছে। বলাই বাহুল্য, এই রহস্যের সমাধান আজও হয়নি।
১৯৫০ সালে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তারপরই জন্ম ভারতীয় জনসংঘের। ১৯৫২ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। এত বছর পেরিয়ে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেন সেদিনের সেই জয়ের এক সুবৃহৎ সম্প্রসারণ। দীর্ঘ সময় বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি প্রবেশ করতে পারেনি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র তিনটি আসন। ২০১৯ লোকসভায় ১৮টি আসনপ্রাপ্তিই এরাজ্যে বিজেপির প্রকৃত অভ্যুত্থান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন। আর এবার ২০৭টি আসন। অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গে জয়। আর এই জয়ের নেপথ্যে রয়ে গিয়েছে শ্যামাপূরণের স্বপ্ন। নিঃসন্দেহে সেই স্বপ্নপূরণ হল মোদি-শাহর হাত ধরে।
