গোবিন্দ রায়: গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্য ও কমিশনের পৃথক বয়ানে ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট। বিভাগীয় তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠনের ভাবনা আদালতের। এই মামলায় যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু করে রিপোর্ট দিতে বলেছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

শুক্রবার বিচারপতি বসুর এজলাসে মামলাটি ওঠে। সেখানে অভিযুক্তদের নোটিস দেওয়ার কথা বলেন বিচারপতি। তাতে আপত্তি জানায় রাজ্য। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আপত্তি জানিয়ে বলেন, "এদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। এফআইআরে কীভাবে নাম আছে এটা দেখতে হবে। এফআইআরে নাম থাকলেই কি তাকে অভিযুক্ত বলতে হবে?" ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, "৩১৩ জন বেআইনি নিয়োগ পেয়েছে সেটা কমিশনই বলেছে। আপনার স্কুল এডুকেশন দপ্তরই নিজেই তদন্ত কমিটি করে দেয়। তারপরও রাজ্য বিশ্বাস করছে না? ওরা কোন ধরণের ভিআইপি যে ওদের কিছু জিজ্ঞেস করা যায় না ? তদন্ত চালিয়ে যান। নোটিস দিন।"
সঙ্গে বিচারপতি বসু প্রশ্ন তুলে বলেন, "সিরিয়াস তদন্ত করতে চাইছেন? নাকি কিছু করবেন না?" তারপরই আদালত বান্ধব কৌশিক গুপ্তর থেকে বিচারপতি জানতে চান, "আপনি কী পরামর্শ দেন? বিভাগীয় তদন্ত করা যায়?" অভিযোগ গুরুতর হলেই সেটা করা যায় বলে মত প্রকাশ করেন আদালত বান্ধব। সেই সঙ্গে আদালত বান্ধব জানান, "পুলিশ এফআইআরের উপর সঠিকভাবে কাজ করছে। এবার নোটিস পাঠানো উচিত।" মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, "এক বছর আগে এফআইআর হয়েছে। কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? অন্তত একটা ফেয়ার তদন্ত হোক।" ৭ এপ্রিল তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিনয় তামাং, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।