সাতসকালে ফের অ্যাকশনে সিবিআই। এক হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে সিবিআই তল্লাশি। আলিপুর-সহ কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গায় একযোগে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। তল্লাশি চলছে একটি ফিনান্স সংস্থার কর্ণধারের অফিস এবং বাড়িতেও। এদিনও তল্লাশি অভিযানে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার নামে এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পূর্ব কলকাতার ফিনান্স সংস্থার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তারই ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিবিআই।
সিবিআইয়ের সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই ফিনান্স সংস্থাটি এই টাকা তছরুপ করে। ওই ফিনান্স সংস্থা ও তারই একটি শাখা সংস্থার দুই অধিকর্তার বিরুদ্ধেই মূল অভিযোগ সিবিআইয়ের। সংস্থা দু’টির কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। ওই সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে টাকা ঋণের জন্য আবেদন জানানো হয়। তার জন্য কিছু নথিও দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাঙ্কটির দাবি, প্রথম দফায় একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ৭৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ নেয়। পরের দফায় ২৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নেয় অন্য সংস্থাটি। ধাপে ধাপে আরও বেশ কিছু টাকা লোণ নেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার পরই চুক্তি লঙ্ঘন করতে থাকে দু’টি সংস্থা। কিস্তির টাকা সময়মতো ফেরত দেওয়া নিয়ে সমস্যা হয়। এই ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্তের পর সিবিআইয়ের অভিযোগ, ওই দু’টি সংস্থা আরও ৬টি ব্যাঙ্ক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। কিন্তু পুরো টাকা ব্যাঙ্কগুলি ফেরত পায়নি। তবে এই এক হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ব্যাপারে গত ২০২৩ সালে ওই ব্যাঙ্কের দুই কর্তা সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ব্যাপারে হাই কোর্টও তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারই ভিত্তিতে ওই দু’টি ফিনান্স সংস্থা ও তার কর্তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা দায়ের করে।
তারই ভিত্তিতে এদিন এই আলিপুরের সংস্থার দুই কর্ণধারের বাড়িতে এদিন সকাল সকাল পৌঁছে যান সিবিআই আধিকারিকরা। এমনকী তাঁদের অফিসেও তল্লাশি চলছে বলে খবর। শুধু আলিপুর নয়, শহরের আরও বেশ কয়েকটি জায়গাতেও সিবিআই আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
