Advertisement

‘ব্যর্থতার দায় শীর্ষনেতাদের’, দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো তন্ময়ের ‘মুখ বন্ধ’করল সিপিএম

09:28 AM May 30, 2021 |
Advertisement
Advertisement

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: সিপিএম সদস্য হয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা যায় না। দলের শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে বিদ্রোহী নেতা তথা উত্তর দমদম কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের (Tanmoy Bhattacharya) মুখ বন্ধ করে দিল সিপিএম। আগামী ৩ মাস দলের তরফে কোনও বক্তব্য রাখতে পারবেন না, বাম শিবিরের পরিচিত এই মুখ। কোনও টেলিভিশন বিতর্কেও সিপিএমের তরফে অংশ নিতে পারবেন না তিনি।

Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

শনিবার ভোটের ফলাফল পর্যালোচনার জন্য ভারচুয়ালি বৈঠকে বসেছিল সিপিএমের রাজ্য কমিটি। সেখানেই ঠিক করা হয়, প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলাই তন্ময়কে শাস্তি পেতে হবে। আসলে সিপিএমের (CPIM) শীর্ষনেতারা দলের অন্য নেতাদের উদ্দেশে বার্তা দিতে চাইছিলেন। নির্বাচনে দলের ভরাডুবি নিয়ে একপ্রকার প্রকাশ্যেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল তন্ময়। তাঁর সাফ কথা ছিল,”দলের এই ব্যর্থতার দায় সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্বের। আমাদের মতো নিচুতলার কর্মীদের নয়। এটা স্ট্যালিনের যুগ নয়। শুধু স্ট্যালিন কপচালে হবে না। লোকসভায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরেও সেই দায় কেউ নেননি। বিধানসভায় হারের পরেও কেউ দায় নেবেন না। সেটা হতে পারে না। ” সিপিএম নেতার এই বক্তব্যে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটে সিপিএমের অন্দরে। অনেকেই একে একে দলের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। প্রকাশ্য টেলিভিশনে তন্ময় ভট্টাচার্য যেন ‘হুইসল ব্লোয়ার’ হয়ে ওঠেন। সেই তন্ময়কে এবার শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সিপিএম রাজ্য কমিটি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের বিবৃতিতেই সায় দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব। সর্বসম্মতিক্রমে তন্ময়কে ৩ মাসের জন্য মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামী ৩ মাস কোনও সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিতে পারবেন না তিনি। কোনও বিতর্কসভায় দলের হয়ে অংশ নিতে পারবেন না।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

[আরও পড়ুন: অতিরিক্ত তৃণমূল বিরোধিতার জেরেই হার! রাজ্য কমিটির বৈঠকে ‘ভুল’ স্বীকার সিপিএমের]

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে শাস্তির নিদান সিপিএমে নতুন কিছু নয়। কিন্তু দলের এই দৈন্যদশাতেও বাম নেতৃত্ব যেভাবে তন্ময়কে সেন্সর করলেন, তা অনেককেই অবাক করেছে। তবে, শাস্তি এদিন পেয়েছেন শুধু তন্ময় ভট্টাচার্যই। তিনি ছাড়া যারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তাঁদের কারোরই শাস্তি হয়নি। আলিমুদ্দিনের কমরেডদের যুক্তি, বাকি সকলেই চিঠি লিখে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। আরেক শীর্ষনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ও (Kanti Ganguly) দলের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁকে অবশ্য কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি। দলের তরফে বলা হয়েছে, কান্তিবাবুর সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
Advertisement
Next