দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে ঢোকার আগে প্রায়শই ঘোষণা হয় ওই রেক শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত যাবে না। ওই রেকের অন্তিম স্টেশন টালিগঞ্জই। ফলে বিরক্তি, ক্ষোভ নিয়েই যাত্রীদের টালিগঞ্জ স্টেশনে নেমে পড়তে হয়। অন্যদিকে, শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে টালিগঞ্জ স্টেশনে মেট্রোর রেক আসতেও দেরি হয় বলে অভিযোগ। টালিগঞ্জ স্টেশনে এসেও বহু সময় মেট্রো দাঁড়িয়ে যায়। ফলে দক্ষিণেশ্বরের দিকে যাওয়া যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। দেরির কারণে অনেক সময় ক্ষোভও তৈরি হয় অনেক যাত্রীর মধ্যে। কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেট্রোর রেকের লাইন বদল (রেক ঘোরানো) নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্যার এবার সমাধান হতে চলেছে। শহিদ ক্ষুদিরাম পার করে কবি সুভাষ যাওয়ার আগেই ট্রেন ঘোরানো যাচ্ছে। এমনই জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের হয়রানি এবার কমবে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত বছরের মাঝামাঝি কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের একাধিক পিলারে ফাটল দেখা যায়। ওই স্টেশনের নিচের অংশের মাটি বসে যাচ্ছে বলেও খবর। তারপরই ওই স্টেশন বন্ধ করে দেয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নতুন করে ওই স্টেশন তৈরি হবে, সেই কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। ব্লু লাইনে তারপর থেকেই দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের মধ্যেই মেট্রো চলাচল করছে। এই লাইনে মেট্রো পরিষেবার ক্ষেত্রে দেরিও হচ্ছে বলে অভিযোগ। দক্ষিণেশ্বর থেকে বহু মেট্রো রেক টালিগঞ্জ স্টেশন অবধি যাচ্ছে। টালিগঞ্জ স্টেশনের পরই ওই রেক দক্ষিণেশ্বরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফাইল ছবি
কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধের পর থেকেই রেক ঘোরানো নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল বলে মেট্রো সূত্রে খবর। দক্ষিণেশ্বর অভিমুখে ট্রেন ছাড়তে দেরিও হচ্ছিল। সমস্যায় পড়ছিলেন যাত্রীরা। বেশ কিছু মেট্রো আবার দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করছিল। তাই সমস্যা মেটাতে শুরু হয়েছিল শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে ‘ক্রসওভার’ তৈরির কাজ। এর মাধ্যমে মেট্রো রেক লাইন বদল করতে পারে। সেই ক্রসওভার তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সিগন্যালিংয়ের প্রযুক্তিরও বেশ কিছু বদল করা হয়েছে। আর তার ফলেই শহিদ ক্ষুদিরাম পার করে কবি সুভাষ যাওয়ার আগেই মেট্রো এবার ঘোরানো যাচ্ছে। ফলে আগের মতো দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না যাত্রীদের। মেট্রো সূত্রে খবর, শীঘ্রই ব্লু লাইনে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
সমস্যা মেটাতে শুরু হয়েছিল শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে ‘ক্রসওভার’ তৈরির কাজ। এর মাধ্যমে মেট্রো রেক লাইন বদল করতে পারে। সেই ক্রসওভার তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সিগন্যালিংয়ের প্রযুক্তিরও বেশ কিছু বদল করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ের শেষে নিউ গড়িয়া সংলগ্ন কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন বিপত্তির কারণে বন্ধ করে দিতে হয়। ওই স্টেশন থেকে যাত্রীদের ওঠানামা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর প্রান্তিক ওই স্টেশন থেকে ট্রেন ঘোরানো নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির মোকাবিলায় মেট্রো কর্তৃপক্ষ শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই কাজ করতে যথেষ্ট বেশি সময় লেগে যায়। টালিগঞ্জ সংলগ্ন মেট্রোর কারশেড আধুনীকিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টালিগঞ্জ থেকে রেকের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও ওই স্টেশন থেকে দক্ষিণেশ্বর অভিমুখে ব্যস্ত সময়ে ট্রেন চালানো শুরু হয়। এই অবস্থায় ক্ষুদিরামের ক্রসওভারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে রেল সূত্রের খবর। দিন দশেক ধরে মেট্রো সেখান থেকে ঘোরানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে দেখে নেওয়া হচ্ছে সিগন্যাল বা অন্য ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে কিনা।
মেট্রো সূত্রে খবর, তেমন কোনও সমস্যা নেই। ধাপে ধাপে দ্রুততার সঙ্গে মেট্রো ঘোরানো সম্ভব হবে। শুরুতেই পুরো প্রক্রিয়া ততটা মসৃণনাও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল। তখন পয়েন্ট এবং সিগন্যালের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বারবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
