বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলের দিকে স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল ভারতের। গণনার শেষ পর্যায়ে কার্যত স্পষ্ট যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিএনপি। শুক্রবার সকালে ওপার বাংলার শাসনভার কার হাতে থাকবে তা স্পষ্ট হতেই এবিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি আশাবাদী, এবার বাংলাদেশ শান্ত হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই উত্তাল বাংলাদেশ। ফলে এই নির্বাচনে ফলাফলের দিকে নজর ছিল সকলেরই। প্রশ্ন ছিল একটাই, জামাত নাকি বিএনপি, কার হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দেবে আমজনতা। শুক্রবার সকালেই মোটের উপর স্পষ্ট ফলাফল। ২৯৯ টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়ে সরকার গড়তে চলেছে খালেদা জিয়ার দল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চরমে উঠেছিল তা নিয়ে বারবার ফুঁসে উঠেছিল বঙ্গ বিজেপি। বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে মুখ খুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসতেই বাংলাদেশ শান্ত হবে বলেই মনে করছেন দিলীপ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চরমে উঠেছিল তা নিয়ে বারবার ফুঁসে উঠেছিল বঙ্গ বিজেপি। বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসতেই বাংলাদেশ শান্ত হবে বলেই মনে করছেন দিলীপ।
উল্লেখ্য, জিততে না পারলেও রাজধানী ঢাকায় জামাত অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সব আশঙ্কা, অনিশ্চয়তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ইতিহাসের নজিরবিহীন উৎসাহ-উদ্দীপনায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইদকেও যেন হার মানিয়েছে এবারের নির্বাচনী উৎসব! গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এ নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার ভোট পড়েছে ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে ৮০.১১ শতাংশ ভোট পড়লেও বৈধ হয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ। দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত না ঘটিয়ে বিশ্বকে ‘আমরাও পারি’ দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় যুগ ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে রক্ত না ঝরিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন বার্তা দিয়ে এক অনন্য নজির তৈরি করেছেন দেশের সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলাদেশের এমন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বিশ্ব কখনও দেখেনি।
