'নতুন তৃণমূলে'র উত্থান। সংসদীয় দলেও ভাঙনের জল্পনা। একের পর পুরনিগমে মেয়রদের ইস্তফা। তৃণমূল প্রশাসনিক ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরই দলের রাজনৈতিক অবস্থা টলমলে। রাজ্যে দল ও শাখা সংগঠনের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার কালীঘাটের বাড়িতে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী। এই বৈঠকে হাজির কলকাতার সদ্য প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র, মদন মিত্র, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষরা। মূলত মমতা অনুগামী অর্থাৎ 'আদি'রাই এই বৈঠকে এসেছেন। জানা যাচ্ছে, 'বিদ্রোহী' বিধায়করা এখনও কেউ যাননি বৈঠকে। দল কি বাঁচাতে পারবেন মমতা? উঠেছে সেই প্রশ্ন।
বিধানসভায় 'বিদ্রোহী'রা মমতার (Mamata Banerjee) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করেছে। নেত্রীকে 'পরামর্শদাতা' হিসাবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পরিষদীয় দলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদেও শুরু হয়েছে 'খেলা ভাঙার খেলা।' এই আবহে দল বাঁচাতে মরিয়া মমতা। 'বিদ্রোহী' বিধায়কদের অনেকের কাছে তাঁর ফোন গিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এরপরই 'বিদ্রোহী' ইটাহারের বিধায়ক বলে বসেন মমতাই তাঁদের নেত্রী। এই মন্তব্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছিল, হয়তো বিদ্রোহীদের কেউ কেউ এ দিনের বৈঠকে আসতে পারেন। কিন্তু কোথায় কী! বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে যদি 'বিদ্রোহী'দের একাংশ আজকের বৈঠকে আসতেন তাহলে, বিরোধী দলনেতা হিসাবে বহিষ্কার করা ঋতব্রত ও সন্দীপনদের বিধানসভা থেকে সরানো যেত!নিয়ম অনুযায়ী, সমর্থন জোগাড় করতে পারলেই নতুন করে এই দাবি করতে পারতেন মমতা। পরিষদীয় দল বেঁচে যেত। রাজ্য বাঁচিয়ে সংসদীয় দলকে ফের শক্ত করতে মন দিতে পারতেন নেত্রী। কিন্তু 'বিদ্রোহী'দের থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। তাহলে কি তৃণমূলের প্রতীক আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে থাকবে না? উত্তর সময়ের গর্ভে।
তবে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আজকের বৈঠক জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠক ছিল। কিছু সংখ্যক বিধায়ক, সাংসদদেরই ডাকা হয়েছিল। মহুয়া মৈত্র, সুস্মিতা দেব, রাজেশ ত্রিপাঠির মতো সাংসদ যাঁরা জাতীয় কার্যকরী কমিটির অংশ তাঁরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এই বৈঠকে সবার যোগ দেওয়ার কথা নয় বলেই জানাচ্ছে তৃণমূল।
