শনিবার নিউটাউনে আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) রিসার্চ পার্কের কনক্লেভে আসেন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। সেখানেই তিনি জানান, আগামিদিনে আইআইটি খড়্গপুরের স্টার্ট আপ কোম্পানির তৈরি রাসায়নিক পৌঁছে যেতে পারে ইসরোতে। যা রকেটকে মহাকাশে পৌঁছতে সাহায্য করবে। এতদিন এই রাসায়নিক বহু ডলারের বিনিময়ে ইসরোকে কিনতে হত আমেরিকার কাছ থেকে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে যে রকেটে চেপে মহাকাশে যাবে গগনযান সেই রকেটের ইঞ্জিনকে আগুন দেওয়ার কাজ করা বোরন বেসড কেমিক্যাল (প্রোপাল্যান্ট) তৈরি হবে দুই বাঙালির উদ্যোগে।
তাঁরা হলেন, আইআইটি খড়্গপুরের গবেষক-অধ্যাপক শান্তনু পান্ডা এবং উদ্যোগপতি দেবাশিস মণ্ডল। ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আইআইটি খড়গপুরে স্টার্ট আপ, এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ, সাসটেনেবল ডেভলপমেন্টের প্রশংসা শোনা গেল ইসরো প্রধানের মুখে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে এই সব স্টার্ট আপ বড় ভূমিকা নিচ্ছে বলে দাবি করেন নারায়ণন।
পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, ডিআরডিও-র তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘অন্বেষা’কে কক্ষপথে প্রতিস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরোর পিএসএলভি-সি ৬২ রকেট। গত সোমবারের এই ঘটনার পিছনে অন্তর্ঘাত থাকতে পারে বলে প্রশ্ন উঠছিল। আইআইটি খড়্গপুরের ‘ইমপ্যাক্ট রাইজ কনক্লেভ’-এ এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন। বললেন, ব্যর্থতা থেকেই শেখা যায়।
ইসরোর চেয়ারম্যানের কথায় আরও জানা গেল, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় রকেটের সাহায্যে চাঁদে অবতরণের প্রস্ততিও জোরকদমে চলছে। ২০২৭ সালে মানুষ নিয়ে রওনা দেবে ইসরোর তৈরি মহাকাশযান ‘গগনযান’। আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী আরও বললেন, “ভারতের প্রথম লক্ষ্য হল দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ-সম্পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে ভারতের সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৫৬। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।” আইআইটির এই অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী কে এন ব্যাস, প্রফেসর অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টরা। ক্লিন এনার্জি, রিনিউয়েবল এনার্জি, সাসটেনেবল মবিলিটি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী-অধ্যাপকরা।
