প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ানো থেকে শুরু করে হেল্পলাইন নম্বর দিয়ে প্রচার। কোনও কিছুই বাদ নেই। তবুও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে ব্লু লাইনে। গত তিন মাসে ৯ জন মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন। তার মধ্যে সাতজনই মারা গিয়েছেন। আর বাঁচানো গিয়েছে দু'জনকে। কিন্তু মেট্রোর সামনে এই ঝাঁপের জেরে প্রায় প্রতিবারই অন্তত এক ঘণ্টা করে ব্যাহত হয়েছে মেট্রো চলাচল। কারণ তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ বন্ধ করে লাইনে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিকে তুলতে লেগে যায় এই সময়। ফলে ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে। সকালের অফিস যাওয়া হোক বা বিকেলে অফিসফেরতা, যে কোনও সময়ই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সাধারণ যাত্রীরাও এতে তিতিবিরক্ত। আত্মহত্যা রুখতে কালীঘাট স্টেশনে গার্ডরেল বসানো হয়েছে। তারপর থেকে সেখানে আর আত্মহত্যা হয়নি। কিন্তু বাকি স্টেশনে তা আর বসানো হবে কি না, সে বিষয়েও সঠিক উত্তর জানা নেই মেট্রো কর্তাদের। অনেকেই বলছেন, আপাতত সেই পরিকল্পনা ঠান্ডা ঘরে।
মেট্রো সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৩টি, ডিসেম্বরে ২টি, জানুয়ারিতে ৩টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ১টি মেট্রোর সামনে ঝাঁপের ঘটনা ঘটেছে। মানে হিসেবে ৯০ দিনে ৯টি আত্মহত্যার ঘটনা হয়েছে মেট্রোপথে। জানুয়ারি মাসে দু'টি ক্ষেত্রেই দুই যাত্রীকে বাঁচানো গিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনাগুলোয় মানসিক চাপ পড়ছে চালকদের উপরও। চোখের সামনে কেউ ঝাঁপ দেওয়ার পর সেই চালককে মেট্রো চালানো থেকে বিরতি দেওয়া হয়। একাধিকবার কাউন্সেলিংও করানো হয়েছে চালকদের। কখনও ময়দান, কখনও মাস্টারদা সূর্য সেন, কখনও নেতাজি, কখনও গিরিশ পার্ক। কলকাতা মেট্রোয় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে।
২০২২ সালে পাঁচ জন আত্মহত্যা করেছিলেন মেট্রোয়। ২০২৩ সালে চার জন। ২০২৪ সালে মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। আর ২০২৫ সালের শেষ দুই এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মিলিয়ে মোট আট জন ঝাঁপ দিয়েছেন। মেট্রোর কর্তারা জানাচ্ছেন, ২০২৫ সাল থেকে এই ঝাঁপের ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে পাঁচ জন আত্মহত্যা করেছিলেন মেট্রোয়। ২০২৩ সালে চার জন। ২০২৪ সালে মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। আর ২০২৫ সালের শেষ দুই এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মিলিয়ে মোট আট জন ঝাঁপ দিয়েছেন। মেট্রোর কর্তারা জানাচ্ছেন, ২০২৫ সাল থেকে এই ঝাঁপের ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে। কোনওভাবেই এই ব্লু লাইনে আত্মহত্যার ঘটনা বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদ দূর করতে এক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর দিয়েও প্রতি স্টেশনে প্রচার চালানো হয়। তাতে বলাই হয়, মানসিক অবসাদে ভুগতে অন্তত এক একবার সেই নম্বরে ফোন করুক। তা হলে দ্রুত কাউন্সেলিং করে সেই ব্যক্তিকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। কেউই সেই নম্বরে ফোন করেন না। ফলে আত্মহত্যার ঘটনা পাতালপথে যেন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
