জেআইএস নিবেদিত ‘সংবাদ প্রতিদিন’ ‘সরস্বতীর সেরা স্কুল’ প্রতিযোগিতায় শহরের স্কুলে স্কুলে জোর টক্কর। একেক স্কুলে একেক রকম থিম। কেউ কারও থেকে কম নয়। প্রত্যেকেই নিজেদের পুজো (Saraswati Puja 2026) ইউনিক করে তুলতে ব্যস্ত। সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ভাবনা তুলে ধরলেন শহরের তিন স্কুলের প্রধান।
সজলকান্তি মণ্ডল
প্রধান শিক্ষক, লবণহ্রদ বিদ্যাপীঠ
মাক্তির পথ জ্ঞানই। একমাত্র জ্ঞানের দ্বারাই মুক্তি মিলবে। অশিক্ষা, কুসংস্কার, শিক্ষার অভাবে কাজ না পাওয়ার মতো সামাজিক সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়ই হল জ্ঞান অর্জন। এই ভাবনা থেকেই আজ বসন্ত পঞ্চমীতে আমাদের স্কুলে দেবী সরস্বতী বসেছেন খোলা বই ও পদ্মের মাঝে। জ্ঞানদার আরাধনা করা বিদ্যার্থীরা যাতে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের কর্মদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সহমর্মিতা, আত্মশ্রদ্ধা, আত্মমুক্তির পথ খুঁজে নিতে পারে সেই বার্তা নিয়ে হাজির পাঁচটি রাজহাঁসও।
দেবীর পাশে খোলা বই ইনস্টলেশনের মাধ্যমে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি বই পড়লে জ্ঞান অর্জন হবে। যার ফলে হৃদয়ের বিকাশ হবে। আর তখনই বাগদেবীর আবির্ভাবও ঘটবে।
দেবীর পাশে খোলা বই ইনস্টলেশনের মাধ্যমে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি বই পড়লে জ্ঞান অর্জন হবে। যার ফলে হৃদয়ের বিকাশ হবে। আর তখনই বাগদেবীর আবির্ভাবও ঘটবে। তখনই কর্মদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, সহমর্মিতা, আত্মশ্রদ্ধা, আত্মমুক্তির মতো পাঁচ গুণের অধিকারী হয়ে উঠবে পড়ুয়ারা। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা 'সংবাদ প্রতিদিন' আয়োজিত 'সরস্বতীর সেরা স্কুল' প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আজ বিচারকদের সামনে পড়ুয়ারা বিশ্লেষণ করবে তাদের কাজ। স্কুল সাজানোর জন্য আমরা কোনও ডেকরেটর নিই না। অষ্টম থেকে দ্বাদশের ছেলেমেয়েরা শিক্ষক তন্ময় মিত্র ও স্বাধীন সাহার উৎসাহে আলপনা দেওয়া থেকে থিমসজ্জা সাজানো সব কাজ নিজেরা করেছে।
অপর্ণা চক্রবর্তী
বাংলার শিক্ষিকা, বিনোদিনী গার্লস হাই স্কুল
"শত বরণের ভাবউচ্ছ্বাস/ কলাপের মতো করেছে/ বিকাশ/
আকুল পরাণ আকাশে চাহিয়া/ উল্লাসে কারে যাচেরে।" শতবর্ষের শতবর্ণ মূর্ত হয়েছে আমাদের এবছরের সারদ-তর্পণে। ১৯২৫-১৯২৬ এক দারুণ সময়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আঘাত ভুলিয়ে মানুষকে মানুষের প্রতি নতুন করে বিশ্বস্ত করে তোলায় যাঁরা সেদিন দায়বদ্ধ ছিলেন সেই-
"কত না দিন কত রঙ্গীন
কত স্বপন করে বপন
ফিরে চলে গেছে কত না জন হায়।" তাঁদের কয়েকজনকে জন্ম শতবর্ষে শ্রদ্ধায় স্মরণে মননে উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা হতে চেয়েছি। ছাত্রীদের তরুণ মন তো সেই স্মরণীয় বরণীয়দের বীজ বপনেরই উপযুক্ত।
সলিল-সংগীতে উজ্জ্বল এক ঝাঁক আলোককণায় সারদ-তর্পণে ঋত্বিক আমাদের গণচেতনার তৃপ্তি। আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় হরিপদ সেন মহাশয়ের নেতাজির আদর্শে ও কর্মে আহুতি ছিল মেয়েদের জন্য এই বিদ্যালয়। স্বপ্নে ছিল নেতাজির ঝাঁসি বাহিনী।
সারদ-অর্ঘ্য ২৩ জানুয়ারিতে রক্তকরবী দিয়ে সাজিয়েছি। সলিল-সংগীতে উজ্জ্বল এক ঝাঁক আলোককণায় সারদ-তর্পণে ঋত্বিক আমাদের গণচেতনার তৃপ্তি। আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ স্বর্গীয় হরিপদ সেন মহাশয়ের নেতাজির আদর্শে ও কর্মে আহুতি ছিল মেয়েদের জন্য এই বিদ্যালয়। স্বপ্নে ছিল নেতাজির ঝাঁসি বাহিনী। তাই আমাদের বিনোদিনী স্থান মাহাত্মো মহীয়ান আর আমরা নারী, আমরা পারি। আজ বাগদেবীর আরাধনায় ভাল কাটুক, আনন্দে কাটুক সবার।
সোনালি মুখোপাধ্যায়
প্রধান শিক্ষিকা, সোদপুর বালিকা বিদ্যালয় (এইচএস)
নেতাজির জন্মদিনে সরস্বতী পুজো। এবছর আমাদের স্কুলে একদিকে যেমন মৃন্ময়ী মূর্তি বন্দিত হচ্ছে, তেমনই থিম হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে জানুয়ারি মাসে জন্ম নেওয়া মনীষীর জীবনকথা, জানুয়ারি মাসের বিশেষ বিশেষ দিবস। শিক্ষিকা বিউটি সেনগুপ্ত, আভা দে কয়ালের তত্ত্বাবধানে মাতৃপ্রতিমার চালচ্চিত্র নিজে হাতে তৈরি করেছে স্কুলের ছাত্রীরা। বীণা, বই, কালি, কলম, দোয়াতের ছবি এঁকে তারা সৃষ্টি করেছে মনোরম এক চালচ্চিত্র। সরস্বতী পুজো প্রতিটা ছাত্রছাত্রীর সৃজনশীলতা প্রকাশে সাহায্য করে। এই শিল্পচেতনা বোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে 'সংবাদ প্রতিদিন' আয়োজিত জেআইএস নিবেদিত 'সরস্বতীর সেরা স্কুল' প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা পড়ুয়াদের পুজো ঘিরে উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কীভাবে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে, গভীর ভাবনার মাধ্যমে বাগদেবীর বন্দনা করা যায় তা তারা শিখতে পারে।
নেতাজি, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, বিবেকান্দর যুবশক্তির প্রেরণামূলক উক্তি ও ছবি তাদের কলমে-তুলিতে ফুটে উঠেছে স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে। পাশাপাশি নারীশিক্ষার প্রসারের কাজের জন্য জনপ্রিয় সাবিত্রীবাঈ ফুলের মতো শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারককেও পোস্টারে ফুটিয়ে তুলেছে তারা।
আমাদের ছাত্রীরা আল্পনা দেওয়া, পুজোর বাজার, জোগাড়, দেওয়াল লিখন, পোস্টার আঁকার মতো নানা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নেতাজি, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, বিবেকান্দর যুবশক্তির প্রেরণামূলক উক্তি ও ছবি তাদের কলমে-তুলিতে ফুটে উঠেছে স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে। পাশাপাশি নারীশিক্ষার প্রসারের কাজের জন্য জনপ্রিয় সাবিত্রীবাঈ ফুলের মতো শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারককেও পোস্টারে ফুটিয়ে তুলেছে তারা।
সব মিলিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সকলেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ‘সরস্বতীর সেরা স্কুল’ -এর লড়াইতে সামিল হয়েছে। বিজয়ীদের নাম প্রকাশিত হবে ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সকালে।
