ভরদুপুরে নারকেলডাঙায় তরুণী খুনের পিছনে অনার কিলিং? ভাইয়ের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি পরিবার! তার জেরে ভাইয়ের হাতে খুন হতে হল তরুণী পুষ্পা কুমারীকে! প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই প্রশ্ন উঠে আসছে। কারণ খুনের পর থেকেই পলাতক তরুণীর ভাই। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
১৪ জানুয়ারি নারকেলডাঙায় দুপুরে বিছানায় বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয় ২২ বছর বয়সী পুষ্পা কুমারীর। প্রথমে কিছু বোঝা না গেলেও ময়নাতদন্তের পর জানা যায় তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তদন্তে নামে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ ও লালবাজারের গোয়েন্দারা। জানা যায়, ঘটনার আগে তরুণীর ভাই বাড়িতে ছিলেন, কিন্তু দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর খোঁজ মিলছে না।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তরুণীর বাবা রাজ নারায়ণ শাহের ব্যবসা রয়েছে। নারকেলডাঙা থানা এলাকার ১৮/এইচ/৯ শিবতলা লেনে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। আদতে তিনি বিহারের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার রয়েছে সে রাজ্যেই। সেখানেই ভাইয়ের বন্ধু ও পরিচিত যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পুষ্পা। কিন্তু তাতে প্রবল আপত্তি ছিল তাঁর ভাই ও কাকার। বন্ধুকেও পুষ্পার থেকে দূরে থাকার কথা বলে তরুণীর ভাই। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। এই নিয়ে ঝামেলাও হয়। জাতপাতের কোনও সমস্যা ছিল বলেও অনুমান।
এদিকে কলকাতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তরুণীর বাবা রাজ। তাঁর ভাড়া বাড়িতে আসেন পুষ্পা। অনুমান, সেই সময় গুজরাটে কাজ করা তরুণীর ভাইও কলকাতার বাড়িতে আসে। অনুমান, ঘটনার দিন বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ফের ঝামেলা বাধে ভাই-বোনের। সেই সময় পুষ্পাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর ভাই। কেউ আসার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। ভাইয়ের খোঁজের পাশাপাশি কলকাতায় পুষ্পার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
