সামনেই কুরবানির ইদ। তার আগে যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে গবাদি পশু হত্যা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি সরকার। আর এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে একগুচ্ছ মামলা কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা দায়ের করেছেন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানও। সেই মামলায় এদিন হাই কোর্টে যান সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। আজ, বুধবার এই মামলা শুনানির জন্য ওঠে। কিন্তু রাজ্যের তরফে সময় চাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আগামিকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হবে। ফলত এই মামলা কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর সবার।
আজ, বুধবার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র জানান, পশু হত্যা নিয়ে রাজ্যের সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগামী ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ কোরবানির ইদ হতে পারে। যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ''১২ নম্বর ধারায় একটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আইনি অনুমতি। সেই ১২ নম্বর ধারাকে সামনে রেখেই ছাড় চাওয়া হয়েছে। বলেছি, শুধুমাত্র এই উৎসবের জন্য যাতে গাভী বাদ দিয়ে মোষ বা বলদকে যাতে এবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।'' এই বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান আবেদন দিয়েছেন বলে জানান তৃণমূল সাংসদ।
মহুয়ার কথায়, ''১২ নম্বর ধারায় একটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আইনি অনুমতি। সেই ১২ নম্বর ধারাকে সামনে রেখেই ছাড় চাওয়া হয়েছে। বলেছি, শুধুমাত্র এই উৎসবের জন্য যাতে গরুকে বাদ দিয়ে মোষ বা বলদকে যাতে এবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।''
রাজ্যে নবগঠিত বিজেপির সরকারকে একহাত নিয়ে মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, ''রাজ্যের সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে গরিব মানুষকে অনেক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, অনেক হিন্দু ব্যবসায়ীরাও গরু কুরবানির সময় বিক্রি করে টাকা রোজগার করেন।'' এই সিদ্ধান্তে তাঁরাও ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে দাবি কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের। বলে রাখা প্রয়োজন, সরকার গঠনের পরেই ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রিতে বেশ কিছু নিয়ম কার্যকর করেছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা দেওয়া যাবে না। এবার থেকে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
