বিধান নস্কর, বিধাননগর: তল্লাশির নামে আইপ্যাক দপ্তর থেকে তৃণমূলের নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও নথি চুরির অভিযোগ। এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) (ED) বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee )। বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনিট পনেরো প্রতীকের বাড়িতে ছিলেন তিনি। তারপর একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে বের হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ইডির অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল চুরি করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এসবের মাঝেই খবর মেলে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও হানা দিয়েছে ইডি। এরপর মমতা সোজা যান সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরে। কিছু নথি, মোবাইল এবং ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তোলেন মমতা।
এরপর থেকেই অভিযোগ, পালটা অভিযোগে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনের তৃণমূলের রণকৌশল 'চুরি' করতেই নাকি ইডিকে ব্যবহার করেছে কেন্দ্র। পালটা ইডি দাবি করেছেন, অনৈতিকভাবে তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা ঘটনার জল গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার রাতে ইডির বিরুদ্ধে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী? এসংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাব চেযেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ইডির তরফে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রকে। এরপর তা অর্থমন্ত্রকের তরফে পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে।
