অভিরূপ দাস: সাহায্য না করেও মিথ্যা দাবি। ছাত্রীর অনুমতি না নিয়ে তা ছাপানো হয়েছিল সংবাদপত্রেও। এক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং সংস্থা’র বিরুদ্ধে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে নালিশ ঠুকেছিলেন চিকিৎসক ঋজুতা দে। ঘটনায় সংস্থাকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হল। শুধু তাই নয়, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হয়েছে ওই চিকিৎসকের কাছে।
বঙ্গের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন, এমন বিষয় সমন্ধে অবগত হন। অনেকেই ভাবেন, শুধুমাত্র খাবার বা ভোগ্যপণ্য খারাপ বেরোলেই ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের সাহায্য পাওয়া যায়। তা নয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায় এমন যে কোনও পরিষেবা পেয়ে ঠকলে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের কাছে আসুন।’’ পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের বাসিন্দা ঋজুতা দে এমবিবিএস পাস করেছেন মণিপালের কস্তুরবা মেডিক্যাল কলেজ থেকে।
স্বপ্ন ছিল ডক্টর অফ মেডিসিন (এমডি) কিংবা মাস্টার অফ সার্জারি (এমএস) করবেন। খোঁজ পান একটি সংস্থার। কলকাতার এক সংস্থা জানায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তারা মাইশুরুর জেএসএস মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পাইয়ে দেবে। অভিযোগ, কোনও সুযোগই মেলেনি। বরং নিজের মেধাতে ভর করেই হরিয়ানা মেডিক্যাল কলেজে মাস্টার অফ সার্জারিতে সুযোগ পান ঋজুতা। তবে ততদিনে কাউন্সেলিং পারিশ্রমিক বাবদ ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে ওই সংস্থাকে।
[আরও পড়ুন: পানশালার গায়িকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভিন রাজ্যের যুবক]
বিস্মিত হওয়ার সে সবে শুরু। এক সকালে খবরের কাগজ খুলেই চমকে যান ঋজুতা। বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে ওই সংস্থার। সেখানে ঋজুতার ছবি। নিচে লেখা, ‘‘আমায় অ্যাডমিশনে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।’’ কিছু না করে এমন মিথ্যা দাবি! ক্ষুব্ধ দে পরিবার এরপর অভিযোগ জানায় পশ্চিমবঙ্গ ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে। ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয় ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে। ডাক্তারি পড়ুয়ার কাছ থেকে নেওয়া ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পুরোটাই ফেরত দিতে বলা হয় সংস্থাকে। গোটা টাকাটাই ফেরত দিয়েছে সংস্থা। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক ঋজুতা দে’র কাছে লিখিত ক্ষমা চেয়েছে। যেখানে তারা লিখেছে, “বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপন ছাপানো উচিত হয়নি। আমরা দুঃখিত।”
ঋজুতার মা মৈত্রেয়ীদেবীর দাবি, কাউন্সেলিং করে কোথাও ভরতি করাতে পারেনি সংস্থা। এমনকী আমার মেয়ে যখন নিজে তামিলনাড়ুর এসআরএম মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছিল সেখানেও তাকে ভরতি হতে বাধা দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠান জানায়, মাইশুরুতে ভরতির পাকা কথা হয়ে গিয়েছে। শেষমেশ দেখা যায় পুরোটাই মিথ্যা।
