ভারতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে গোটা দেশ। এই প্রথমবার রাজ্যসভা পেতে চলেছে সমকামী সাংসদ। বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছে তৃণমূল। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের শাসক শিবিরের হাত ধরেই ভারতীয় রাজনীতিতে হতে চলেছে নয়া ইতিহাস রচনা।
ন্যাশনাল ল স্কুল, হার্ভাড এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন।
মেনকার বাবা মোহন গুরুস্বামী। তিনি বিজেপির প্রাক্তন কৌশলী। অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহার বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। যদিও যশবন্ত সিনহা গত ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। পারিবারিক রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা যা-ই হোক না কেন, বরাবর স্বাধীনভাবেই জীবনপথে এগিয়ে গিয়েছেন মেনকা। ছোট থেকেই
ছাত্রী হিসাবে অত্যন্ত উজ্জ্বল মেনকা। ন্যাশনাল ল স্কুল, হার্ভাড এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে জোরাল সওয়াল করেছেন মেনকা।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে জোরাল সওয়াল করেছেন মেনকা। ফাইল ছবি
- ছত্তিশগড়ের মাওবাদী দমনে তৈরি 'সলওয়া জুড়ুমে'র বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
- মণিপুরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগে 'অ্যামিকাস কিউরি' হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- অগস্ত ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি কপ্টার দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এসপি ত্যাগীর আইনজীবী ছিলেন মেনকা।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সমকাম অধিকার রক্ষার লড়াই করেছিলেন। ৩৭৭ ধারা বাতিলের মামলায় জয়ী হয়েছিলেন। তার লড়াইয়ের ফলে ভারতে সমকামিতা অপরাধমুক্ত হয়। সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের করা আইপ্যাক মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটার জেনারেল এসভি রাজুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডাতেও জড়িয়েছিলেন। যা নিয়ে চর্চা কম হয়নি। বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা অত্যন্ত পরিচিত মুখ। সমকামীদের অধিকার আন্দোলন লড়াইয়ের সময় পরিচিতি পান। তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী অরুন্ধতী কাটজু। ২০১৯ সালে প্রথমবার দু'জনে একসঙ্গে সমকামী যুগল হিসাবে ধরা দেন। ৩৭৭ ধারা বাতিলের 'সুপ্রিম' রায়কে ব্যক্তিগত জয় বলে উল্লেখও করেছিলেন মেনকা।
মেনকা গুরুস্বামী এবং অরুন্ধতী কাটজু। ফাইল ছবি
সেই মেনকাকেই রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছে তৃণমূল। জয়ী হলে তিনিই হবেন প্রথম সমকামী সাংসদ।
