নিউটাউনের হোটেলে জোট নিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দলের মধ্যে ও বামফ্রন্টেও কাঠগড়ায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim-Humayun Kabir Meet)। সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শুক্রবারও সমালোচনার ঝড় অব্যাহত। এই ইস্যুতে সিপিএম কার্যত আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি হুমায়ুন ইস্যুতে সিপিএমের কিছু তরুণ নেতার আবার দ্বিচারিতাও সামনে এসে গিয়েছে। পার্টির বড় অংশ যখন বিরুদ্ধে তখন হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সেলিমের (Mohammed Salim) পাশে দাঁড়িয়েছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। অথচ যে শতরূপ নিউটাউনের হোটেলের বৈঠককে সমর্থন করছেন, সেই তিনিই সোশাল মিডিয়ায় এই হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) নিশানা করেই বিজেপি যোগ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন।
অথচ যে শতরূপ নিউটাউনের হোটেলের বৈঠককে সমর্থন করছেন, সেই তিনিই সোশাল মিডিয়ায় এই হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেই বিজেপি যোগ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন।
গত ডিসেম্বরেই সোশাল মিডিয়ায় শতরূপ হুমায়ুনকে কটাক্ষ করা একটি পোস্টকে বিঁধে হুমায়ুন-বিজেপি যোগ বোঝাতে রিপোস্ট করেন। সেই পোস্টে লেখা ছিল, ‘‘মুর্শিদাবাদ লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী শ্রী হুমায়ুন কবিরকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করুন।’’ আবার এখন হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের বৈঠক নিয়ে তিনি বলছেন, ‘‘মমতা ও বিজেপিকে হারাতে যা করার হয় করব। যদি কথা হয়ে থাকে বেশ হয়েছে। আবার কথা হবে।’’ আর শতরূপের এই দ্বিচারিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘বেচারা অবশ্য সেদিন বুঝতে পারেনি এই পোস্টের ২ মাসের মধ্যেই এই হুমায়ুনকেই ওকে আব্বা বলে ডাকতে হবে। অবশ্য এর মতিগতি অনেকদিন ধরেই দোদু্ল্যমান, ক’দিন আগেই একটা পডকাস্টে মমতাদির প্রশংসা করে দিয়েছে। আমি তাই আর বেশি কিছু বলব না। কারণ কে না জানে, রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প।’’
গত ডিসেম্বরেই সোশাল মিডিয়ায় শতরূপ হুমায়ুনকে কটাক্ষ করা একটি পোস্টকে বিঁধে হুমায়ুন-বিজেপি যোগ বোঝাতে রিপোস্ট করেন। সেই পোস্টে লেখা ছিল, ‘‘মুর্শিদাবাদ লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী শ্রী হুমায়ুন কবিরকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করুন।’’
হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সেলিমকে বেনজির আক্রমণ করলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। নরেন বলেন, ‘‘গোপনে প্রেম হয় না। বামফ্রন্টে আলোচনা ছাড়া একা একা যদি কেউ এগোয় সেটা সন্দেহের ব্যাপার।’’ ‘সাম্প্রদায়িক’ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের জোট বৈঠক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পার্টি কর্মীদের তোপ অব্যাহত। ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি এই বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করেছিল।
পাল্টা সেলিম দুই বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘‘ফরওয়ার্ড ব্লক-আরএসপি একটু বেসুরো কথা বলে। একটু বেসুরো না বললে তারা যে সিপিএম নয়, আলাদা দল বুঝব কী করে।’’ এরপরই দুই শরিকের পাল্টা নিশানা করেছে সেলিমকে। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, ‘‘কোনও নেতার একার অধিকার নেই মিত্র শক্তিকে খঁুজতে যাওয়ার। সেই মিত্র শক্তি তো সাম্প্রদায়িক শক্তি। সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে প্রেম করতে গিয়েছে। বামফ্রন্টে আলোচনা হোক তারপর যেতে পারতেন।’’
সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেছেন, পার্টির সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনও কথা হয় না। আর পার্টির রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যই সর্বোচ্চ। হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক সেলিম একক সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন করলেন সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বামফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নালিশ করেছেন।
আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় বলেন, ‘‘সব দলেরই আলাদা মতাদর্শ রয়েছে। কাউকে অপমান করা, ইনসালটিং টোনে কথা বলাটা রাজনৈতিক শিক্ষা নয়।’’ বৈঠক ইস্যুতে শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘সেলিম মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিধায়ক হতে। এখন শতাংশের হিসাব দেখে নতুন আসন খঁুজতে বেরিয়েছেন। সিপিএম সেটাই বলছে।’’ প্রবীণ সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, "আর যাই হোক সিপিএম নিশ্চয়ই কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট করবে না।" সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেছেন, পার্টির সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনও কথা হয় না। আর পার্টির রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যই সর্বোচ্চ। হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক সেলিম একক সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন করলেন সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বামফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নালিশ করেছেন।
এদিকে জোট করা নিয়ে তাঁকে ‘অনৈতিক আক্রমণ’-এর জেরে সেলিমের মন্তবে্যর জবাব তঁার ব্লক কংগ্রেস সভাপতি দেবেন বলে এদিন গান্ধীমূর্তিতে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
এদিকে জোট করা নিয়ে তাঁকে ‘অনৈতিক আক্রমণ’-এর জেরে সেলিমের মন্তবে্যর জবাব তঁার ব্লক কংগ্রেস সভাপতি দেবেন বলে এদিন গান্ধীমূর্তিতে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শুভঙ্করের ‘তৃণমূলের প্রতি একটু বাড়তি দরদ আছে বলে মনে হয়’ বলে সেলিম বৃহস্পতিবার যে মন্তব্য করেছিলেন তা নিয়ে কংগ্রেসের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের কথা সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শুভঙ্কর। প্রশ্ন তুলেছেন, আরজিকর কান্ডে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তঁার নেতৃত্বে কংগ্রেস লালবাজার অভিযান করেছিল, কিন্তু তখন সেলিম কী এমন কোনও কর্মসূচি নিয়েছিলেন? শুভঙ্কর আরও বলেন,‘‘কলকাতার সংবিধানের পাঠ প্রথম করেছিলাম। সংবিধানে সবাইকে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু তা কখনই যাতে ব্যক্তিগত আক্রমণ না হয় এবং প্রত্যাঘাত হয়ে ফিরে না আসে। এটা নিশ্চয়ই খেয়াল রাখা দরকার।’’
