কংগ্রেসের 'হাত' ধরতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আলিমুদ্দিন (Left-Congress Alliance)। এবার সোশাল মিডিয়ায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কংগ্রেসকে জোটে আসার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানালেন। কংগ্রেসকে জোটে পেতে সেলিমের এই আহ্বান নিয়ে অবশ্য সেরকম আগ্রহী নয় বামফ্রন্টের শরিকরা। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসকে জোটে চেয়ে সিপিএম যদি পোস্ট করে তাহলে দায়িত্ব সিপিএমের। বামফ্রন্টে এসব নিয়ে আলোচনা হয়নি।
শুক্রবার সেলিম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "শুধু বামফ্রন্ট নয়, আমরা কংগ্রেস এবং আইএসএফকেও বলছি, যারা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে রাজি আছে তাদের সবাইকে একজোট করে লড়তে হবে।” একইসঙ্গে সেলিমের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস দল তাকিয়ে আছে প্রদেশ কংগ্রেসের দিকে, প্রদেশ কংগ্রেস তাকিয়ে আছে দিল্লি কী বলবে সেদিকে। আমরা বলছি এই বাংলার ভবিষ্যৎ কোনও হিল্লিদিল্লি ঠিক করবে না, এই বাংলার মানুষকেই ঠিক করতে হবে। কংগ্রেসকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।" প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী জোটের পক্ষে হলেও প্রদেশ
কংগ্রেস যে এখনও রাজি নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আইএসএফের জোটে আসা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত সিপিএম। কিন্তু শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক 'হাত' ধরার ক্ষেত্রে সেরকম আগ্রহী নয়। সরকারে থাকাকালীন ৩৪টি আসনে লড়ত ফরওয়ার্ড ব্লক। এবারও সেই আসনগুলিতে লড়তে অনড় তারা। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২১টি আসনে লড়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট করে লড়াইয়ের পক্ষে সিপিআই। সিপিআই নেতা গৌতম রায়ের দাবি, “গতবার আমরা ১০টি আসনে লড়েছিলাম। এবার বাড়তি আসনের দাবি করেছি।"
এদিকে, কংগ্রেসকে জোটে আসার ডাক দিয়ে সেলিমের সমাজমাধ্যমে আহ্বান নিয়ে বিরুদ্ধ মন্তব্য বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই। সোশাল মিডিয়ায় কমেন্টে সিপিএমের এই 'হাত' প্রীতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেলিমের ফেসবুক পোস্টেই জনৈক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, 'লোকসভা নির্বাচনে নোটার বোতাম টিপে চলে এসেছিলাম এই জোটের জন্য (কলকাতা উত্তরে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিল)। বিধানসভা নির্বাচনেও তাই করব। যতদিন না জোট ছেড়ে নিজেরা একা নির্বাচনে লড়বে, ততদিন ভোট নয়।'
