ভোটের সময় বাংলার শীর্ষ আমলা ও পুলিশ অফিসাররা এবার কাজ করবেন অন্য রাজ্যে! তাঁদের ভিনরাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন! বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইএএস অফিসার ও আইপিএস অফিসার তুলে নিল কমিশন। আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। সেই সংক্রান্ত চিঠিও এসেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ জন করে আইএএস ও আইপিএস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রকাশ মীনা ও অন্যান্য শীর্ষ আইএএস অফিসারদের। আইপিএস অফিসারদের মধ্যে তালিকায় রয়েছে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী ও আসানসোল পুলিশ কমিশনার নাম।
জানা গিয়েছে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যগুলির কাছে বিশেষ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য আমলা ও পুলিশকর্তাদের তালিকা চেয়েছিল কমিশন। বাংলা না কি, সেই তালিকা পাঠায়নি। তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিজে থেকেই আইপিএস ও আইএএস অফিসারদের তুলে নিয়েছে।
এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্রোপাধ্যায় এক সংবাদমাধ্যমে বলেন, "রাজ্য সাহায্য করেনি তাই কমিশন কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে।" জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য এই কাজ করছে বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির দলদাস। বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নানারকম কারচুপি ও অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে। বিজেপির অনুকূলে যতরকম প্রভাবিত করা যায় সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে এই নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাচ্ছেন, বুঝবে কত ধানে কত চাল।"
উল্লেখ্য, এই সময় বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হলেই ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে পারে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে পিছিয়ে যেতে পারে সেই তারিখ। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরপরই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রকাশ করা হতে পারে বলে অনুমান। তবে শুধু বাংলায় নয়, নির্বাচন রয়েছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতেও বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার মাঝে অন্য রাজ্যগুলিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য বাংলার অফিসারদের তুলে নিল কমিশন।
