পাটুলির অপরিসর রাস্তা দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে চলেছে কলকাতা পুলিশের 'কর্মা' অ্যাম্বুল্যান্স। গাড়ির মাথায় জ্বলছে বাতি। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি এলাকায় এভাবে পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্স যেতে দেখে একটু হতবাক হয়েছিলেন বাইক নিয়ে টহলরত দুই পুলিশকর্মী। তাঁরা অ্যাম্বুল্যান্স থামানোর চেষ্টা করতেই আরও গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে গাড়িটি। তাতেই সন্দেহ হয় তাঁদের। প্রায় এক কিলোমিটার তাড়া করে পুলিশের 'কর্মা' অ্যাম্বুল্যান্সটি ধরে ফেলেন দুই পুলিশকর্মী।
আগেই শহর থেকে চুরি গিয়েছিল থানার ওসির গাড়ি। এবার সার্ভে পার্ক এলাকা থেকে পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্স চুরি করে পালাল এক যুবক। তার পকেট থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি 'মাস্টার কি'। ওই চাবি দিয়েই অ্যাম্বুল্যান্সের দরজা খুলে গাড়িটি চালিয়ে পালায় সে। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ধৃত ওই যুবকের নাম রহিম শেখ। তার বাড়ি পার্ক সার্কাস এলাকায়। পাটুলি থানার পুলিশ আধিকারিকরা তাকে আটক করে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। সার্ভে পার্ক থানার ভিতরে ঢুকে নিজেকে মানসিক বিপর্যস্ত বলে প্রমাণ করতে সেই ধরনেরই আচরণ করতে থাকে। যদিও পুলিশের মতে, যেহেতু তার কাছ থেকে 'মাস্টার কি' উদ্ধার হয়েছে, তাই তার উদ্দেশ্যই ছিল পুলিশের গাড়ি চুরি করার। আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে রয়েছে সে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাইপাসের উপর অজয়নগর মোড়ের কাছে পার্ক করা থাকে কলকাতা পুলিশের 'কর্মা' অ্যাম্বুল্যান্স। কোনও পথ দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় হলে পুলিশ উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে 'কর্মা' পাঠায়। ভোররাতে রহিম শেখ এসে 'মাস্টার কি' দিয়ে দরজা খুলে ওই গাড়ি চুরি করে চালিয়ে নিয়ে বাইপাস ধরে পাটুলির দিকে যেতে থাকে। পাটুলির কাছে এসে ভিতরের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে সে। বিভিন্ন অপরিসর রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে চালাতে সে পৌঁছে যায় কেন্দুয়ায়।
সেখান থেকে গাঙ্গুলিবাগান দিয়ে অন্যদিকে পালানোর ছক কষেছিল সে। কিন্তু কেন্দুয়ায় টহলরত পাটুলি থানার বাইক আরোহী পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত গতিতে ভিতরের রাস্তায় 'কর্মা' দেখে সন্দেহ হয়। চলন্ত বাইকে বসেই তাঁরা থানায় যোগাযোগ করে জিজ্ঞাসা করেন, বাঘাযতীন বা গাঙ্গুলিবাগান অঞ্চলে কোনও বিপর্যয় হয়েছে কি না। থানা থেকে জানানো হয়, কোনও বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা হয়নি। থানার পক্ষে 'কর্মা' ডাকাও হয়নি।
তখনই অ্যাম্বুল্যান্সটিকে তাড়া করেন পুলিশকর্মীরা। 'কর্মা' গতি বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত এক কিলোমিটার তাড়া করে গাড়িটিকে পুলিশ ধরে ফেলে। পুলিশের অ্যাম্বুল্যান্স উদ্ধার করে রহিমকে পাটুলি থানার পুলিশ আটক করে সার্ভে পার্ক থানার হাতে তুলে দেয়। সে যে গাড়ি চালাতে জানে, সেই ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত। এর আগেও রহিম গাড়ি চুরি করেছে কি না, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
