সন্ন্যাস জীবন ছেড়ে রাজনীতিতে পা স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজি বা উৎপল মহারাজের (Utpal Maharaj)। বিজেপি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ আসনে প্রার্থী করেছে তাঁকে। রাজনীতির 'ফাঁদে' পা দেওয়ার অভিযোগে ওই সন্ন্যাসীকে বহিষ্কার করল ভারত সেবাশ্রম সংঘ। যদিও সন্ন্যাসীর দাবি, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়নি। ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেটি গ্রহণ করেছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ।
ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে জানানো হয়েছে, "স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ (উৎপল মহারাজ) রাজনৈতিক ফাঁদে পা দিয়ে আশ্রম পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছে। এই সংবাদ পাওয়ামাত্রই সংঘ কর্তৃপক্ষ প্রধান কার্যালয়ে পরিচালন সমিতির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংঘ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
ভারত সেবাশ্রম সংঘের ফেসবুক পোস্ট
উৎপল মহারাজ বলেন, "ভারত সেবাশ্রম সংঘ আধ্যাত্মিক, সেবামূলক, অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে আমি সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছি। এর আগে বলেছিলাম আমি ইস্তফা দিয়েছি। ইস্তফাপত্রও জমা দিয়েছিলাম। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
ভারত সেবাশ্রম সংঘের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন উৎপল মহারাজ (Utpal Maharaj)। যদিও তাঁর দাবি, বহিষ্কার নয়। আগেই ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী সংঘ তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছে। উৎপল মহারাজ বলেন, "ভারত সেবাশ্রম সংঘ আধ্যাত্মিক, সেবামূলক, অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে আমি সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছি। এর আগে বলেছিলাম আমি ইস্তফা দিয়েছি। ইস্তফাপত্রও জমা দিয়েছিলাম। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
উল্লেখ্য, কালিয়াগঞ্জ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেখানে বিধায়ক ছিলেন সৌমেন রায়। তবে একুশের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক পদ খারিজের মামলা করেন। সে কারণে আবারও গেরুয়া শিবিরে ফেরেন সৌমেন। সম্ভবত বারবার দলবদলের ফলে তাঁকে এবার আর প্রার্থী করেনি গেরুয়া শিবির। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয় উৎপল মহারাজকে। এভাবে হিন্দুত্বকে হাতিয়ার করে বিজেপি ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
