বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের কথা ভেবে SIR শুনানি (SIR Hearing) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে কর্মক্ষেত্রে বা পড়াশোনার জন্য রাজ্যের বাইরে থাকলে এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। অনলাইনে নথি জমা দিলেই হবে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে কমিশন। ওই নথি জমা করার জন্য আলাদা একটি পোর্টাল তৈরি হবে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভিনরাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক, পড়ুয়া ও কর্মসূত্রে বাইরে থাকা ব্যক্তি যারা শুনানিতে হাজির হতে পারবেন না তাদের জন্য একটি পোর্টাল চালু করা হবে। সেই পোর্টালে প্রামাণ্য নথি দিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা। সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, 'শুনানিতে নিজেরা না আসতে পারলে, বাড়ির সদস্যরা গেলেও হবে'। শুনানিতে না গেলেও তার নথি গ্রহণযোগ্য হবে কমিশনে।' দ্রুত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হবে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে বুধবারও কমিশনের তরফে বিএলওদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এক আধিকারিক জানান, অনেক ক্ষেত্রে বিএলওরা কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সব নজরে রাখা হয়েছে। কোনরকম অনিয়ম দেখলেই করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসআইআরে যা যা ভুল, বা সাধারণের যা যা ভোগান্তি সেসবের জন্য ঘুরিয়ে বিএলও-দের ভুলকেই দায়ী করা হচ্ছে কমিশনের তরফে। সূত্রের দাবি, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এরপর থেকে কোনও বিএলওর স্তরে ইচ্ছাকৃত ভুল পেলে সরাসরি কমিশন মামলা দায়ের করবে। ইআরও-দের উপর সেই ভার ছাড়া হবে না।
উল্লেখ্য, বুধবার থেকে তথ্যে অসংগতি থাকার জন্য ৯৪ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে কমিশন। যদিও কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষের শুনানি সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এরই মধ্যে ভিনরাজ্যে কর্মরতদের জন্য অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করল কমিশন।
