ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: কয়লা পাচার মামলায় অভিযান হলে, সেই সময় আইপ্যাকের দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) বাড়িতে তল্লাশি নয় কেন? বৃহস্পতিবার আচমকা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের পরই প্রশ্ন তৃণমূলের। অমিত শাহ ইডিকে ব্যবহার করে দলের ডেটা চুরির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তুলে শুক্রবারও সরব তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে 'চুক্তিবদ্ধ' ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থাটির সল্টলেকের অফিসে ইডির হানায় (ED Raid at I-PAC Office) তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে ভোটের রণকৌশল, প্রার্থী তালিকা চুরি করছে বলে অভিযোগ তুলে সরব রাজ্যের শাসকদল। পালটা ইডির দাবি, কয়লা পাচার মামলায় এই অভিযান।
২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নামে ইডি। অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই মামলাতেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইডি। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের তথ্য চুরির জন্য অমিত শাহ ইডিকে কাজে লাগিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, "কয়লা পাচার কাণ্ডের দুর্নীতির মামলায় এই অভিযান হলে প্রশান্ত কিশোরের বাড়িতে অভিযান নয় কেন? ২০২০ সালে আইপ্যাকের প্রধান কর্ণধার ও ভোটকুশলী ছিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো উচিত।"
প্রশান্ত কিশোরের নতুন দল জন সুরাজ পার্টি বিহার বিধানসভায় বিজেপির সাহায্য করেছে বলে তাঁর বাড়িতে অভিযান হয়নি বলেও দাবি অরূপের। তাঁর কথায়, "প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে বিরোধী ভোট কেটেছে। তাতে লাভ হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। অতএব পুরো অভিযোগটাই মিথ্যা।" তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপি পেরে উঠবে না বলেই এই অভিযান বলে তোপ দাগেন তিনি। 'প্রতিহিংসার রাজনীতি'র জন্য দলের রণকৌশল ঠিক করার দায়িত্বে থাকা প্রতীকের বাড়িতে অভিযান। এমন অভিযোগ তুলে তৃণমূলের মুখপাত্র আরও বলেন, "যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। ইডি, সিবিআই দালালদের দিয়ে বাংলার মাটি দখল করা যাবে না। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চতুর্থবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল।"
