অভিরূপ দাস: মেরেকেটে কুড়ি কেজি ওজনের বছর পাঁচেকের একরত্তি। তার পেটের ভারই প্রায় তিন কেজি! যেন ৫ বছরের খুদের পেটে গুটিশুটি মেরে রয়েছে আস্ত একটা 'সদ্যোজাত'। যার জেরে বন্ধ হয়েছিল খাওয়া দাওয়া। ফুলে থাকত পেট। মলত্যাগেও বিড়ম্বনা। দেড়মাস ধরে এই সমস্যা নিয়ে ভুগছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা পাঁচ বছরের শিশুটি।
অবশেষে শাপমুক্তি এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM Hospital)। বিনামূল্যে গুরুতর অস্ত্রোপচার করে একরত্তিকে নতুন জীবন দিল শিশু শল্য বিভাগ। শিশু শল্য বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. সুজয় পালের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার হয়। টিমে ছিলেন ডা. অনীক, ডা. অরিন্দম, ডা. বাবুল রহমান, ডা. শিঞ্জিনী পান। অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. সঙ্গীতা মণ্ডল। কী হয়েছিল বাচ্চাটির পেটে?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পেটের আবরণকে বলা হয় পেরিটোনিয়াম। বাচ্চাটির যা হয়েছিল চিকিৎসা পরিভাষায় তার নাম রেট্রোপেরিটোনিয়াল টিউমার, অর্থাৎ পেটের পিছনের অংশে যা ডালপালা মেলে। ভয়টা সেখানেই। এসএসকেএম হাসপাতালের শিশু শল্য বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. সুজয় পাল জানিয়েছেন, এই অংশেই থাকে কিডনি, অগ্ন্যাশয়, শরীরের প্রধান রক্তনালি। মারাত্মক এই রেট্রোপেরিটোনিয়াল টিউমার প্রায় নষ্ট করে দিয়েছিল বাঁ দিকের কিডনি। তার চাপে কুঁচকে গিয়েছিল বৃক্ক। পেটের পিছনের অংশে থাকে অ্যাওর্টা বা মহাধমনির মাধ্যমে অক্সিজেন পূর্ণ রক্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাতেও সমস্যা হচ্ছিল।
বড়দের ক্ষেত্রে অল্পস্বল্প দেখা গেলেও ছোটদের ক্ষেত্রে এই টিউমার অত্যন্ত বিরল। হাজারে একজনের হয়। পেটের পিছনের অংশ দখল করে নিয়েছিল টিউমারটি। পেটটা ফুলে গিয়েছিল প্রকাণ্ডভাবে। হাসপাতালে সিটি স্ক্যানে প্রথম ধরা পড়ে এই মাংসপিণ্ড। বাড়ির লোক জানিয়েছে, বছর দুয়েক আগেও সব স্বাভাবিক ছিল। গত একমাস ধরেই বাড়তে শুরু করে এই মাংসপিণ্ড। চিকিৎসকদের কথায় "এমন আকস্মিক বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়।" ডা. সুজয় পালের কথায়, ‘‘এই ধরনের মাংসপিণ্ডে হাড়, দাঁত, চুলও দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে মাংসপিণ্ডের মধ্যে প্রায় ১০ ইঞ্চি একটা হাড় ছিল। তবে নিশ্চিন্তের দিক একটাই, এই ধরনের টিউমারে সাধারণত ক্যানসার কোষ থাকে না। টানা চার ঘণ্টারও বেশি ম্যারাথন অস্ত্রোপচারে অবশেষে শাপমুক্তি এসএসকেএমে।
