সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির আক্রমণের মুখে পড়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক। নয় ঘণ্টা টানা তল্লাশি চলে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। যে ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির 'চোখ রাঙানি'তে যে ভীত নয় তৃণমূল এবং আইপ্যাক, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটাই যেন স্পষ্ট করে দেওয়া হল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য থিম সং প্রকাশ করল রাজ্যের শাসকদল। যেখানে বাংলার 'অগ্নিকন্যা' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন 'বাঘিনী'। তৃণমূলের 'যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা' স্লোগানকে ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই গান। গানের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা।
২০২১-এর নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার ঘরের মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করে থিম গান হয়, 'বাংলা নিজের মেয়েকে চায়'। এবার সেই ঘরের মেয়ে হয়ে উঠছেন বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের ত্রাতা। অগ্নিকন্যা হয়েছে উঠছেন বাঘিনী। তিন মিনিটের এই নতুন গানের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিভিন্ন সময়ের সভা-সমিতি, মিছিল এবং অন্যান্য কর্মসূচির ছোট ছোট ভিডিওকে এক সুতোয় বেঁধে তৈরি হয়েছে এই গানের মূল ভিডিও।
গত কয়েকদিন ধরেই সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'বাঘিনী' বলে উল্লেখ করে চলেছেন তৃণমূল সমর্থকরা। সেই সুরে ইতিমধ্যে সুর মিলিয়েছেন কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। মেহবুবা বলেন, "বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে তল্লাশি চলছে। আগে এটা অবশ্য হয়নি। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এখানে শুধুই তল্লাশি হত। তখন বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চুপ করে ছিল। তিনজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন। সকলে মুখ বুজে সেসব দেখছিল। সংবাদপত্র খুললেই দিনে কমপক্ষে ২০-২৫টি তল্লাশির খবর দেখা যেত। এখন সেটাই বাংলায় হচ্ছে।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি আরও বলেন, "তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাহসী। তিনি বাঘিনী। তিনি লড়াই করবেন। কখনওই আত্মসমর্পণ করবেন না।" তৃণমূল নেত্রীর এই বাঘিনী রূপই এবার প্রকাশ পেয়েছে নির্বাচনের জন্য তৈরি হওয়া থিম গানে।
আইপ্যাকের তরফে জানানো হয়েছে, 'যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা কেবল একটি গান নয়, এটি আমাদের দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতিরোধের ডাক। এতে বাঙালির চিরাচরিত লড়াকু মেজাজকে তুলে ধরা হয়েছে।' বিজেপির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই তৃণমূলের অভিযোগ তারা বহিরাগত। সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। এর মাঝেই এই নতুন গানের মাধ্যমে শাসকদল বোঝানোর চেষ্টা করছে বাংলা তার বিরুদ্ধে চলা ঘৃণা এবং ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। ধর্মকে হাতিয়ার করে পদ্মশিবির যেভাবে ভাষা, সংস্কৃতি ও সহাবস্থানকে অপমান করছে, এই গানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে সেটাই দেখিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূল।
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের কাছে যেসব প্রাপ্য দাবি তৃণমূল দাবি করেছে, এই গানে তা-ও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলার টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে বাঙালি মনীষীদের অপমান, ভোটার তালিকার কারচুপি থেকে এসআইআর, সব উঠে এসেছে এই গানে। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিপুল সাড়া ফেলেছে এই গান। শনিবার এই গান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে আইপ্যাক ও তৃণমূল স্পষ্ট করে দিল যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আক্রমণের মুখে দমছে না তারা।
