সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর কয়েক আগে যখন গোটা পৃথিবী 'অদৃশ্য' শত্রুর হানায় বেসামাল, সেই সময়ই সব কিছু দ্রুত বদলে যাচ্ছিল। আর সেই বদলে যাওয়া দুনিয়ায় ঘরে বসেই 'বাহির'-এর সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করতে হচ্ছিল। আর তখনই জন্ম নিয়েছিল এক ই-লার্নিং অ্যাপ। নাম টিউটোপিয়া। সুব্রত রায় নামের এক বঙ্গতনয়ের মস্তিষ্কপ্রসূত সেই অ্যাপ রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিল। বাংলা মিডিয়ামের ছেলেমেয়েদের সহায় হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু সুব্রতবাবুর কর্মযজ্ঞ কেবল এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাই টেক অ্যানিমেশন নামের এক সংস্থাও তাঁর। যাদের তৈরি 'কুরুক্ষেত্র' নেটফ্লিক্সের এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। সেই মানুষটিই বৃহস্পতিবাসরীয় দুপুরে জেআইএস নিবেদিত সংবাদ প্রতিদিন 'সহজ পাঠ ২০২৬'-এ উপস্থিত হয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাই টেক অ্যানিমেশনের আরেক কর্ণধার শুভ্র চক্রবর্তী। দু'জনে মিলে অ্যা্নিমেশন শিখতে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের মনে জ্বেলে দিলেন এগিয়ে চলার ইচ্ছেপ্রদীপ।
সুব্রতবাবু প্রথমেই সকলকে চমকে দিয়ে বললেন, ''কোনও বাধ্য ছেলেমেয়েই অ্যানিমেশন করে না।'' আসলে এখানে 'বাধ্য' বলতে তিনি একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসের কথাই বলছিলেন। কী সেই প্রবণতা, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন এক অসাধারণ উদাহরণ সহযোগে। এক 'অবাধ্য' ছাত্রের কথা বললেন। যে নার্ভের অসুখে আক্রান্ত। আর সেই অসুখের কারণেই হাত দু'টি পিছন দিকে সরে গিয়েছে তার। জিভও কাজ করে না। শ্রবণশক্তি ও সচল মস্তিষ্ককে সঙ্গে নিয়ে পায়ে লিখেই সে মাধ্যমিকে পেয়েছে ৯৫ শতাংশ। সুব্রতবাবুর কথায়, ''আমার কাছে ও হচ্ছে অবাধ্যের সংজ্ঞা। ছেলেটি ভগবানেরও মানা শোনেনি। বলো কে কে এমন অবাধ্য হতে চাও?'' প্রেক্ষাগৃহে ফেটে পড়া হাততালিই বলে দিচ্ছিল উত্তরটা।
ছবি: কৌশিক দত্ত
আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে পরিস্থিতিকে বাধ্যত না মেনে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার কথা বলে সকলকে উদ্বুদ্ধ করলেন সুব্রতবাবু। পরে সকলকে অ্যানিমেশন জগতের কথা শোনালেন শুভ্রবাবু। জানালেন তাঁদের স্টুডিওয় কীভাবে এক হাজার শিল্পী মিলে নিত্যদিন সৃষ্টিশীলতায় বুঁদ রয়েছে। 'কুরুক্ষেত্রে'র ১৮ দিনের অ্যানিমেশন তৈরি করতে দীর্ঘদিনের অধ্যাবসায়, কাজের ফাঁকেই ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টন খেলার সেই 'গল্প' সত্যিই চিত্তাকর্ষক। এই কলকাতাতেই এমন অফিস রয়েছে, যেখানে মনের আনন্দে হইহই করে এমন কাজ করা চলছে। সেকথা জানিয়ে পড়ুয়াদের সামনেও ভালোবেসে এই পেশায় আসার আহ্বান জানালেন তিনি। তবে মনে করালেন, সবার আগে ভেবে দেখতে হবে কী করতে সবচেয়ে ভালো লাগে। যদি উত্তরটা ছবি আঁকা হয়, তাহলে থ্রিডি কিংবা টুডি অ্যানিমেশনের দরজা খুলে ফেলার সাহস জোগালেন শুভ্রবাবু।
ছবি: কৌশিক দত্ত
কিন্তু যুগটা যে এআইয়ের। এখনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে, তাতে আগামিদিনে এআই কতটা এগোবে ভাবতেও ভয় লাগে! এই প্রসঙ্গ উঠে এল পড়ুয়াদের প্রশ্নে। যার জবাবে সুব্রতবাবু জানালেন, এআই এক অসীম সম্ভাবনাময় বিষয়। প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে পারাটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কেবল নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে নিজেদের হাতে। তাহলেই এআই আর শত্রু বা বাধা নয়, হয়ে উঠবে এগিয়ে চলার সঙ্গী।
