অর্ণব আইচ: অস্ত্র পাচার চক্রের সন্ধান করতে গিয়ে কলকাতায় বেআইনি অস্ত্রের ডিলারের সন্ধান পেলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। আখতার হোসেন নামে ওই অস্ত্র ডিলারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে আজহার আলি ও ইমতিয়াজ মহম্মদ নামে আরও দু’জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে ময়দান এলাকা থেকে অস্ত্র-সহ এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেন। তাকে জেরা করে জানা যায়, কলকাতায় অস্ত্র কেনাবেচার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আখতার হোসেনের। সেইমতো গোয়েন্দারা বিভিন্ন জায়গায় শুরু করে তল্লাশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কুমড়োখালি এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আখতার হোসেনকে।
জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, তার হাত ধরেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছে বিভিন্ন ধরনের বহু অস্ত্র।
[আরও পড়ুন: তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীর উপর ‘হামলা’ বিজেপির, তমলুকে ব্যাপক উত্তেজনা]
এর মধ্যে মুঙ্গেরি পিস্তলের সংখ্যাই বেশি। বিহার থেকে কখনও ট্রেন, আবার কখনও বা সড়কপথে মুঙ্গেরের অস্ত্র পাচারকারী চক্রের এজেন্টরা তার হাতে তুলে দিয়েছে ৭ এমএম, ৮ এমএম ও ৯ এমএম পিস্তল। যদিও তার আগে আখতার একাধিকবার নিজে কখনও বিহার, কখনও বা ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বেশ কয়েকটি বেআইনি অস্ত্র কারখানার মালিক তথা অস্ত্র পাচারকারী চক্রের মাথাদের সঙ্গে কথাও বলে এসেছে। কখনও বা সঙ্গে নিয়ে এসেছে অস্ত্রের নমুনা।
আখতারের দাবি, ভিনরাজ্যে কোথায় কোথায় বেআইনি অস্ত্র কারখানা চলছে, সেই তথ্য সে জানে। এক গোয়েন্দা আধিকারিক জানান, আর কয়েক মাস পরই লোকসভা ভোট। তার আগে যাতে কলকাতা বা এই রাজ্যের কোথাও দুষ্কৃতীদের হাতে অস্ত্র না পৌঁছয়, সেই ব্যাপারে পুলিশ এখন থেকেই সতর্ক হচ্ছে। তাই মূলে গিয়ে অস্ত্র কারখানাগুলিতেই হানা দিতে চায় পুলিশ। সেই কারণেই আখতারকে সঙ্গে নিয়েই অস্ত্র কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি অস্ত্র তৈরিই বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
