অনেক লড়াইয়ের পর ভোটাধিকার পেয়েছিলেন যৌনকর্মীরা। সেই অধিকার কেড়ে নিল নির্বাচন কমিশন। ঘটা করে সোনাগাছিতে বিশেষ শিবির খুলে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের আশ্বাসের পরও নাম বাদ গেল সোনাগাছির দেড়শোর মতো যৌনকর্মীর। এসআইআরে (West Bengal SIR) নাম তুলতে তাঁদের জন্য বিশেষ ক্ষমতাও প্রয়োগ করল না কমিশন। ভোটাধিকার হারানোর পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দেড়শোর মতো যৌনকর্মী ও তার পরিবার।
উত্তর কলকাতার সোনাগাছি শ্যামপুকুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। বুধবার ভোট। এই যৌনপল্লিতে সাত হাজারের বেশি বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২১০০ যৌনকর্মীর এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। অনেকে আতঙ্কে সেই সময় যৌনপল্লি ছেড়ে চলে যান। যৌনকর্মীদের এই সমস্যার কথা জানিয়ে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখেছিল। এছাড়া যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা আরও তিনটি সংগঠন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল। এসআইআর নিয়ে যৌনকর্মীদের আতঙ্ক কাটাতে মাঠে নেমেছিলেন স্বয়ং মনোজ আগরওয়াল। কমিশন সোনাগাছিতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করেছিল। শিবিরে হাজির ছিলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। যৌনকর্মীদের অভয় দিয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেছিলেন, "বাবা-মায়ের নাম না থাকলেও বৈধ ভোটার হলে স্পেশাল পাওয়ার দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। কমিশনের কাছে এই বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।"
দুর্বারের সম্পাদক বিশাখা লস্কর বলেন, যৌনকর্মীদের অনেকের নাম অ্যাডজুডিকেশনে ছিল। তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। নথিপত্র সব দেওয়ার পরও অনেকের নাম ওঠেনি। সোনাগাছিতেই এই সংখ্যা প্রায় দেড়শো জন। অনেকে আছেন, যাঁদের ছেলেমেয়ের নাম উঠেছে, মায়ের নাম ওঠেনি। এদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত আমরা। তাঁর কথায়, যৌনকর্মীদের ভোটাধিকার সহজে মেলেনি। এর জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন সেই অধিকার কেড়ে নিল। যৌনকর্মীরা জানান, মনোজ আগরওয়াল বলেছিলেন কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। কারও নাম যদি বাদ যায় সেই ক্ষমতা বল প্রয়োগ করে নাম তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় সেই বিশেষ ক্ষমতা? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদ যাওয়া যৌনকর্মীরা।
দুর্বারের সম্পাদক বিশাখা লস্কর বলেন, যৌনকর্মীদের অনেকের নাম অ্যাডজুডিকেশনে ছিল। তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। নথিপত্র সব দেওয়ার পরও অনেকের নাম ওঠেনি। সোনাগাছিতেই এই সংখ্যা প্রায় দেড়শো জন। অনেকে আছেন, যাঁদের ছেলেমেয়ের নাম উঠেছে, মায়ের নাম ওঠেনি। এদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত আমরা।
তাঁদের কথায়, বিশেষ ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকলে আমাদের নামগুলি বাদ যেত না হিয়ারিংয়ের পরও। এবার ভোট (West Bengal Assembly Election) দিতে পারছি না। ভবিষ্যতে ভোট অধিকার পাব কি না তা জানি না। যৌনকর্মী ও তাঁদের সন্তানদের জন্য কাজ করা 'আমরা পদাতিক' সংগঠনের অ্যাডভোকেসি মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় বলেন, "খুব খারাপ লাগছে কমিশন আশ্বস্ত করার পরও অনেক যৌনকর্মীর নাম বাদ গিয়েছে। সোনাগাছির সংখ্যাটা একটু বেশি। কালীঘাটে যৌনকর্মীর ২ ছেলেরও নাম বাদ গিয়েছে। খিদিরপুরেও কিছু যৌনকর্মীর নাম ওঠেনি। এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা বাড়া স্বাভাবিক। এবার ভোট দিতে না পারলেও ভবিষ্যতে যাতে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় তা নিয়ে ডিস্ট্রিক লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির সঙ্গে কথা হয়েছে।
