হুমায়ুন বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim)। এবার হুমায়ুনের দাবি, বামফ্রন্ট ও পার্টির মধ্যে সমালোচিত হওয়ার পরও সেলিম এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আর ভরতপুরের বিধায়কের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর বাম শিবিরে ফের তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পার্টি ও শরিকদলের আপত্তি সত্ত্বেও কেন এখনও ‘সাম্প্রদায়িক’ হুমায়ুনের (Humayun Kabir) সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক? হুমায়ুন বলেছেন, ‘‘বামফ্রন্টের যেসব নেতৃবর্গ আজ এসব কথা বলছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না যে, তাঁদের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম শুধু একটি পাঁচতারা হোটেলেই আমার সঙ্গে দেখা করেননি। আরও পাঁচতারা হোটেলে দেখা করেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। এবং, এই সমালোচনার পরও আমার মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি এখনও বলছেন, আশ্বস্ত করছেন যে, তৃণমূলকে হারানোর জন্য তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’’
শুধু তাই নয়, হুমায়ুন এমনও স্পষ্ট করেছেন যে, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর দরজা খোলা থাকবে। ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি জানাবেন মিম, আইএসএফ, সিপিএম কার সঙ্গে জোট বাঁধছেন। সেলিম এখনও গোপনে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন, এই দাবি হুমায়ুন করার পর বাম মহলে ফের বিতর্ক দানা বেধেছে। সিপিএম কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, তা হলে পার্টির নীতি-নৈতিকতা বলে আর কিছুই রইল না।
হুমায়ুন বলেছেন, ‘‘বামফ্রন্টের যেসব নেতৃবর্গ আজ এসব কথা বলছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না যে, তাঁদের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম শুধু একটি পাঁচতারা হোটেলেই আমার সঙ্গে দেখা করেননি। আরও পাঁচতারা হোটেলে দেখা করেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। এবং, এই সমালোচনার পরও আমার মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি এখনও বলছেন, আশ্বস্ত করছেন যে, তৃণমূলকে হারানোর জন্য তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’’
হুমায়ুন-সেলিম যোগাযোগ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘হুমায়ুন যদি বলে থাকে তার সঙ্গে এখনও সেলিম যোগাযোগ রাখছেন, সেটা সেলিম বলতে পারবেন। আসলে সিপিএম অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে। একে ফোন-একে ফোন করছেন সেলিম। সিপিএমের মুরোদ নেই ভোটে (West Bengal Assembly Election) একা লড়ার। কখনও কংগ্রেস, কখনও নওশাদ, কখনও হুমায়ুনকে ধরতে যাচ্ছে।’’ জোটের জন্য আগ্রহী হুমায়ুনকে এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, ‘‘হুমায়ুন দরজা খোলা রাখছেন জোটের জন্য। কেউ আসছেও না, উনিও দরজা বন্ধ করতে পারছেন না।’’
এদিকে, জোট করার জন্য হুমায়ুনের দেওয়া ২৫ ফেব্রুয়ারির ‘ডেডলাইন’ নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। সুজনের বক্তব্য, ‘‘হুমায়ুন দিল্লি থেকে ঘুরে এসে কী সব বুঝেছে, কী সব বলেছে, তার উত্তর দেওয়ার আমি পক্ষপাতী নই। হুমায়ুন ডেডলাইন দেবে আর সিপিএমকে মানতে হবে? মিমের হাত ধরে যে অপেক্ষায় থাকে তার সঙ্গে আলোচনার কোনও সুযোগ থাকবে না।’’ হুমায়ুনকে সুজন চক্রবর্তী গুরুত্ব না দিলেও, ভরতপুরের বিধায়কের দাবি নিয়ে কিন্তু চর্চা চলছে বাম মহলে। সুজনের অন্য সুরে আবার সেলিম পন্থী যুবনেতা শতরূপ ঘোষ অবশ্য হুমায়ুনকে আক্রমণের বদলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।
সংবাদ মাধ্যমে শতরূপের বক্তব্য, ‘‘আমি মহম্মদ সেলিমের দল করি। আমার কাছে এরকম কোনও তথ্য নেই। মহম্মদ সেলিম কাকে কী বলেছেন তা আমরা মহম্মদ সেলিমের মুখ থেকে শুনতে অভ্যস্ত।’’ বিতর্কের ঝড় ওঠায় হুমায়ুন সিপিএমের কাছে কার্যত ‘ক্লোজড চ্যাপটার’-ই হয়েছিল। কিন্তু ফের সেলিম প্রসঙ্গে ভরতপুরের বিধায়কের দাবি নিয়ে আবার চর্চা যে, গোপনে কি সেলিম এখনও জোটের আশায় যোগাযোগ রেখে চলেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে।
শতরূপের বক্তব্য, ‘‘আমি মহম্মদ সেলিমের দল করি। আমার কাছে এরকম কোনও তথ্য নেই। মহম্মদ সেলিম কাকে কী বলেছেন তা আমরা মহম্মদ সেলিমের মুখ থেকে শুনতে অভ্যস্ত।’’
অন্যদিকে, আইএসএফের সঙ্গেও জোট ঠিক কবে চূড়ান্ত হবে, নওশাদের দলের দাবি মতো কমপক্ষে ৫০টি আসন সিপিএম ও বাম শরিকরা ছাড়তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার মঙ্গলবার আসন বণ্টন নিয়ে আরএসপির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। আরএসপির তরফে ১৯টি আসন দাবি করা হয়েছে। সিপিএম অবশ্য তা দিতে রাজি নয়। রবিবার ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবিও মানেনি সিপিএম।
