আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। কিন্তু বিতর্কের মাঝেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ৭৮টি বহুতল আবাসনে বুথ তৈরি হবে। তবে কোন কোন আবাসনে বুথ করা হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি। এমটাই জানা গিয়েছে কমিশন সূত্রে। পাশাপাশি আরও খবর, যেহেতু এবার প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশিও ভোটারে নাম বাদ যাচ্ছে তাই বুথের সংখ্যাও কমে যাবে!
রাজ্যের বহুতলগুলিতে বুথ তৈরি নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। বাসিন্দাদের একাংশের যুক্তি ছিল, আবাসনে বুথ তৈরি হলে তাঁদের ‘প্রাইভেসি’ ও শান্তি বিঘ্নিত হবে। অন্য অংশের অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায়। বহুতল আবাসনে বুথ করার পিছনে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, অন্য জায়গায় বুথ হওয়ায় আবাসিকই ভোট দিতে যান না। এতে ভোটদানের হার কমে যায়। কমিশনের আশা, বহুতলগুলিতে বুথ তৈরি হলে অনেক বৃদ্ধ ভোটার এবার ভোট দেবেন।
আবাসনে বুথ নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যত সেই আপত্তি উড়িয়েই কমিশন জানিয়েছিল, ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, এমন বহুতল আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হবে। প্রসঙ্গত, বিজেপির রাহুল সিনহা, শিশির বাজোরিয়ারা বহুতল আবাসনে বুথের আবেদন জানিয়েছিলেন। তৃণমূল কটাক্ষ করেছিল, কমিশন যে বিজেপির 'বি টিম' তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। এখন সিইও দপ্তরটা বিজেপি পার্টি অফিসে নিয়ে এলেই হয়ে যায়।
সেই সময় কমিশন জানিয়েছিল, কলকাতা-সহ রাজ্যের সাতটি জেলায় মোট ৬৯টি বহুতল আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতায় ২টি, উত্তর কলকাতায় ৮টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৫টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ২২টি, হাওড়ায় ৪টি, পূর্ব বর্ধমানে ৩টি এবং হুগলিতে ৫টি বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন কমিশন আজ, বুধবার জানিয়েছে রাজ্যে ৭৮টি আবাসনে বুথ হবে। তবে কোন জেলায় কত, তা তালিকা প্রকাশ হলেই জানা যাবে।
অন্যদিকে, প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়াও শুনানি পর্যায়ে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার উপস্থিত হননি। তাঁদের পাওয়া না গেলে নাম বাদ যাবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও খসড়া তালিকায় নাম থাকা অনেকের নাম বাদ যেতে পারে বলে অনুমান। সেই হিসাব ধরে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ যেতে পারে। তাই বিধানসভা নির্বাচনে বুথের সংখ্যা কমে যাবে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
