ভোটের (Assembly Elections 2026) আগে ফের রাজ্যের প্রশাসনিক পদে রদবদল। রাজ্যের ১৪ বিধানসভা আসনের রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৯ জেলার ১৪ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদল করা হয়েছে। গত সোমবার তাঁদের নিয়োগ করেছিল কমিশনই। পাঁচ দিনের মাথায় ওই রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব থেকে সরানো হল।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারদের ৯ টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি রিটার্নিং অফিসার বদল। ওই জেলার ৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার বদল করল কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ২০০৯ সালের পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস অফিসার রাজর্ষি নাথকে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন বদলি ও নিয়োগ তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, প্রতিটি জেলা ও নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী অফিসারের নাম, পূর্বের পদ এবং নতুন দায়িত্ব। শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে ওই আধিকারিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়েছে জলপাইগুড়ি, ভরতপুর, বাদুড়িয়া, জগৎবল্লভপুর, যাদবপুর, ময়না, নন্দকুমার,পুরশুড়া, কাঁথি দক্ষিণ, এগরা, খড়্গপুর, দাসপুর হলদিয়া এবং সোনামুখী আসনের। এ ছাড়া হরিহরপাড়া, করিমপুর, ফাঁসিদেওয়া, নন্দীগ্রাম, খানাকুল, কেশিয়াড়ি, রাইপুর বিনপুর এবং বর্ধমান দক্ষিণ আসনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন।
গত সোমবার রাজ্যের ৭৩টি কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করে কমিশন। সেই তালিকায় ভবানীপুর কেন্দ্রে নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়কে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করে কমিশন। অভিযোগ, সুরজিৎ রায় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। তাঁর নির্দেশে ওই অফিসার কাজ করছেন! গত ২৪ মার্চ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে গতকাল মুখ্যসচিবের কাছে ৩ জন অফিসারের নাম চেয়ে পাঠিয়েছিল কমিশন। তবে ১৪টি আসনে নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হলেও তালিকায় নাম নেই মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরের।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ থাকে। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকেন। প্রার্থীদের নমিনেশন গ্রহণ থেকে নির্বাচনের সময় প্রাথমিক দায়িত্বভার এই অফিসারদের উপরেই বর্তায়।
