আইএসএফকে (ISF) বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় আলিমুদ্দিনের উপর ক্ষুব্ধ সিপিএমের নিচুতলার বড় অংশ। একাধিক আসনে বাম কর্মী-সমর্থকদের তো বটেই, সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরাও অনীহা প্রকাশ করছে নওশাদের দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে। যেখানে যেখানে আইএসএফ প্রার্থী দিয়েছে সেই ৩১টি আসনে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা কতটা পুরোদমে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নামবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
আইএসএফের দাবিকে প্রাধান্য দেওয়ায় সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর বেজায় চটেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএম নেতারা। কারণ, পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে সিপিএম প্রার্থী করেছিল তাদের পার্টির পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে। সেই আসনে আইএসএফও প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। এই আসনটি আইএসএফকে ছেড়ে সিপিএম তাদের প্রার্থী নিরঞ্জন সিহিকে প্রত্যাহার করে নিতে চলেছে। জেলা সম্পাদককে প্রার্থী করার পর তিনি প্রচারেও নেমে পড়েছিলেন। তারপর তাঁকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার যে বার্তা আলিমুদ্দিনের তরফে এসেছে আইএসএফের কাছে চাপে পড়ে তা মেনে নিতে পারছে না পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের বড় অংশই। জেলা পার্টির তরফে তাদের অসন্তোষের বিষয়টি আলিমুদ্দিনকে জানানো হয়েছে। আবার আইএসএফকে না চটিয়ে ক্যানিং পূর্বে আরাবুলের বিরুদ্ধে শেষমেশ কোনও পালটা প্রার্থী না দেওয়ার পথেই যাচ্ছে সিপিএম। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের বড় অংশেরই মনোভাব ক্যানিং পূর্বে পার্টি কোনও প্রার্থী না দিলে তারাও আরাবুলের হয়ে প্রচারে অংশ নেবে না। ফলে দুই জেলার নেতাদের মনোভাব নিয়ে কার্যত ফাঁপরে পড়েছে আলিমুদ্দিন। একাধিক আসনেই নওশাদ সিদ্দিকির দলের হয়ে প্রচারে অনীহা প্রকাশ করছে সিপিএমের জেলার নিচুতলার কর্মীরা।
এদিকে, আইএসএফ-এর জন্য নিজেদের আসন ছেড়ে দিতে নারাজ বাম শরিকরা। আইএসএফ প্রার্থী দিলেও মধ্যমগ্রামে পালটা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। প্রার্থী করা হয়েছে নিতাই পালকে। বামফ্রন্টের আর এক শরিক আরএসপিও বাসন্তী আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। সেই আসনে ইতিমধ্যে আইএসএফের প্রার্থী রয়েছে। ফলে আইএসএফ-এর সঙ্গে বামফ্রন্টের পুরোপুরি জোট হচ্ছে না কয়েকটি আসনে। আবার মুরারই আসনে সিপিএমের প্রার্থীকেই বামফ্রন্ট সমর্থন করবে। এরই মধ্যে বুধবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট এবং সহযোগী দল হিসাবে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী বোঝাপড়া অনুযায়ী বামফ্রন্ট ২৫২টি আসনে যার মধ্যে সিপিএম ১৯৫, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩, সিপিআই ১৬, আরএসপি ১৬, আরসিপিআই ১ এবং মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক ১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে স্থির হয়েছে।
