নজরে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ভোটব্যাঙ্ক। দোলের পর নতুন কর্মসূচি তৃণমূলের। ৮৪টি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি অধ্যুষিত বিধানসভায় বিশেষ প্রচার চালাবে শাসকদল। দলের তরফে বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। সেই গাড়িতে ৩-৪জন থাকবেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করবেন তাঁরা। নজরুল মঞ্চে 'তফসিলি সংলাপ' কর্মসূচি সভায় এমনটাই জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
ভোটের আগে আজ, সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে মূলত তফসিলি নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৃহত্তর সমাবেশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূলের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি তফসিলি ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচার করে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, "বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে তফসিলিদের উপর অত্যাচারের নিরিখে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে। এই বিজেপি বাবা সাহেব আম্বেদকর রচিত সংবিধান সংশোধন করে তফসিলিদের অধিকার কেড়ে নেবে।" অন্যদিকে, তৃণমূল সরকার এসসি ও এসটি মহিলাদের উন্নতির জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। পাঁচ বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০০ টাকা হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।
তারপরই নেতাকর্মীদের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে বলেন, "বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য কী করেছে সেই তথ্য তুলে ধরতে হবে।" তবে কর্মী-নেতাদের সতর্ক করে তাঁর বার্তা, "আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না। বুথে ১০০ ভোটে জেতার কনফিডেন্স থাকলে সেটা ২০০ করার চেষ্টা করুন। বাড়ি বাড়ি যান। প্রচারের গাড়ি না এলে, অপেক্ষায় থাকার দরকার নেই। নিজে চলে যান।"
পাশাপাশি বিজেপির রথযাত্রার কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। বলেন, "আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে রথযাত্রা হয় বলে জানি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে রথযাত্রা আবার কী।" অভিষেকের হুঙ্কার, "চোর চিটিংবাজদের রথ। রথ যত্নে রাখুন। ওই রথেই গুজরাত ফিরে যেতে হবে। অন্তর্যামী আগামী দিনে ফল দেখিয়ে দেবে। বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামাতে হবে।" বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়া হলে কেন্দ্রে তাদের সরকার থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।
