পুরুলিয়ার জয়পুরের ভোটবাক্সে বড় ফ্যাক্টর কুড়মি সমাজ। এই কেন্দ্রে এবার লড়াই মূলত তৃণমূল বনাম নির্দল প্রার্থী। আর এই প্রেক্ষিতে পুরুলিয়ার জয়পুরে ভোটপ্রচারে গিয়ে নির্দল প্রার্থীকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
অভিষেক বলেন, "কুড়মি ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্য সরকার চিঠি পাঠিয়েছে। অজিত মাহাতো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে কেন কুড়মালি ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন করা হয়নি। ডিল করে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছেন।"
কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কুড়মি সমাজ লড়াই করছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিকবার দরবার করেন কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা। এবার তারা আলাদা করে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ। জয়পুরে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়ছেন বিশ্বজিৎ মাহাতো। তিনি কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতোর ছেলে। তাঁকে খোঁচা দিয়ে এদিন অভিষেক বলেন, "কুড়মি ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্য সরকার চিঠি পাঠিয়েছে। অজিত মাহাতো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকে কেন কুড়মালি ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন করা হয়নি। ডিল করে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছেন।"
এক সময় মাওবাদী অধ্যুষিত ছিল পুরুলিয়ার জয়পুর। বর্তমানে সেখানে উন্নয়নের জোয়ার বলেই দাবি অভিষেকের (Abhishek Banerjee)। প্রচার সভার মঞ্চ থেকে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। বলেন, "জয়পুরে রামকৃষ্ণ মাহাতো গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ঝালদায় মডেল স্কুল, ৭টি আপার প্রাইমারি স্কুল, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি সাঁওতালি স্কুল, ৫৫টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। কুড়মিদের জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে।" অভিষেকের দাবি, বিড়ি শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল তৈরির কথা। তবে কেন্দ্রের উদাসীনতায় জমি দেওয়ার পরেও রাজ্য সরকার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। নির্বাচনের পর রাজ্য সরকার নিজ উদ্যোগে এই হাসপাতালের কাজ শেষ করবে বলেই আশ্বাস অভিষেকের।
