কষ্টের অর্থ দিয়ে প্রতি বছর খেতে পটল চাষ করেন মাজেদ মল্লিক। নির্বাচনের আগে প্রতিবার ওই ব্যক্তির জমির পটল নষ্ট করে যায় দুষ্কৃতীরা! সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (Bengal Election 2026)। দিন কয়েক ধরেই আতঙ্কিত ছিলেন মাজেদ। সেই আশঙ্কাই সত্য হল। এবারও পটলের খেত নষ্ট করে গেল দুষ্কৃতীরা! মাথায় হাত ওই চাষির! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু কেন প্রতিবার নির্বাচনের আগেই এমন ঘটনা?
বিধানসভা, লোকসভা পেরিয়ে ফের সামনে বিধানসভা ভোট। ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। জোরকদমে প্রচার চলছে। এদিকে ভোট এলে 'সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডরায়' মাজেদ মল্লিক। হরিহরপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বাড়ির অদূরেই তাঁর কয়েক বিঘা জমি আছে। সেই জমিতেই তিলি পটল চাষ করেন তিনি। শুরুর দিকে সব দিকই ছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগেই ভোট থেকে শুরু হল সমস্যা। ভোটের আগে ওই জমির পটোল খেত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল!
সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে চলেছে প্রতিবার ভোটের আগেই। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর পটলের খেত নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেও ওই ঘটনা ঘটেছিল। এবারও সামনে বিধানসভা নির্বাচন। দেখা গেল, এবারও সেই ঘটনা। রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা ওই ফসলের খেত নষ্ট করে গিয়েছে। আজ, শুক্রবার ভোরবেলা মাঠে গিয়ে মাজেদ মল্লিক দেখতে পান, তাঁর বিঘার পর বিঘা পটলের খেত কে বা কারা কেটে দিয়ে চলে গিয়েছে! পটল, কাকরোল গাছগুলির শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে। প্রতি নির্বাচনের আগেই এই দুষ্কৃতী হানা ঘটে তাঁর জমিতে!
এই বিষয়ে বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পরিতোষ সাহা বলেন, "আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি। নিরপেক্ষ তদন্ত করে অতি দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।" কিন্তু ঘটনার সঙ্গে কি কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে? জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি একসময় বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রাক্তন সদস্য। এখনও সিপিএম কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ভোটের কাজও করছেন। সে কারণেই কি পটল খেতে হামলা?
