shono
Advertisement
Bengal Election 2026

'পাপের ঘড়া পূর্ণ, এবার বিজেপি শূন্য!' কোচবিহারের সভার পর 'সুশাসন' ও 'রোজগার' নিয়ে মোদিকে বিঁধল তৃণমূল

অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের ইস্যুতে পালটা বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল।
Published By: Jaba SenPosted: 07:46 PM Apr 05, 2026Updated: 08:11 PM Apr 05, 2026

আজ কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে রাজনৈতিক সভা থেকে অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস পরিবর্তন, নারী নিরাপত্তা সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, "তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।" মোদির এই মন্তব্যকেই কটাক্ষ করে তৃণমূল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, "পাপের ঘড়া পূর্ণ, এবার বিজেপি শূন্য!" অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের ইস্যুতে পালটা বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল। এছাড়াও সুশাসন, রোজগার ও আত্মনির্ভরতা ইস্যুতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসকদল।

Advertisement

তৃণমূলের কটাক্ষ, অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তন শব্দ দুটি ব্যবহারের জন্য প্রতিবার যদি নরেন্দ্র মোদি এক টাকা করে পেতেন তাহলে এত দিনে তিনি কোটিপতি হয়ে যেতেন। যদি সত্যিই বাংলায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এসআইআরের মাধ্যমে প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা গেলে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে পারল না কেন? অন্যদিকে, জনবিন্যাস পরিবর্তন ইস্যুতে তৃণমূলের অভিযোগ, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্য রাজ্যের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি নিজেই।

একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপির 'সুশাসন' ও 'রোজগার' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। পাশাপাশি বাংলার 'স্বনির্ভর' মডেলকে তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরিখে বিজেপি শাসিত দিল্লি, ওড়িশা, রাজস্থান ও হরিয়ানা শীর্ষে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে বছরে ৬৬ হাজার ৩৮১টি মামলা রুজু হয়, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৮টি করে ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে তফসিলি জাতির বিরুদ্ধে অপরাধ ৭৬ শতাংশ এবং তফসিলি জনজাতি বিরুদ্ধে অপরাধ ১২০ শতাংশ বেড়েছে।

রোজগারের নিরিখেও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে তৃণমূল। স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৯.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। স্নাতকোত্তরদের ক্ষেত্রে তা ২১.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬.২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১০ লক্ষ শূন্য পদে এখনও কোনও নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, বাংলার স্বনির্ভর মডেল তুলে ধরে তৃণমূল দাবি করেছে, কেন্দ্রের বরাদ্দ বন্ধ থাকলেও বাংলায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের মোট ২০ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকারও বেশি মজুরি দেওয়া হয়েছে। ৩৮,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২ লক্ষ পরিবারকে পাকা বাড়ি পেয়েছে। পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ২.২০ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। আরও ৩০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পের টাকা কেন্দ্রের তরফে বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও প্রায় ১ কোটি পরিবারের কাছে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির শাসনে অপরাধ ও বেকারত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement