ভোটের প্রচারে গিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের রুটি বেতলে, দাড়ি কামাতে, বাটনা বাটতে দেখা গিয়েছে গৃহস্থের বাড়িতে। এবার প্রার্থী রাস্তার কল থেকে জল ভরে দুই বাতলি জল গৃহস্থের বাড়িতে পৌঁছে দিলেন! প্রচার করতে করতে বৃদ্ধার দুই বালতি জল পৌঁছে দিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘরুই। রবিবার সকালে ওই ঘটনা দেখা গিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ, পালটা অভিযোগও উঠেছে।
ভোট বড় বালাই। প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীরা কেউ দাড়ি কেটে দিচ্ছেন, রুটি বেলে দিচ্ছেন, কেউ আবার কাঠের বোঝা পৌঁছে জনসংযোগ করছেন! সাধারণ মানুষদের কাছে পৌঁছতে চাইছেন। এবার প্রচারে বেরিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে দুই বালতি জল পৌঁছে দিলেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘরুই। এদিন সকালে ১৮নম্বর ওয়ার্ডের নিশানহাটে প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্মণ ঘড়ুই অভিযোগ করেন, "বহু মানুষ এখনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে পানীয় জলের সমস্যা এখানে চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক দূর থেকে জল আনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও এই কষ্টের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দেখেই আমি ওই বৃদ্ধাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিই এবং নিজে হাতে জল পৌঁছে দিই তাঁর বাড়িতে।"
রাস্তা থেকে দুই বালতি ভর্তি জল দু'হাতে টেনে বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন লক্ষ্মণ ঘরুই। এই ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। বিজেপি প্রার্থীর দাবি,"কেন্দ্রীয় সরকারের হর ঘর জল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্যে সেই কাজ সঠিকভাবে করতে দেওয়া হচ্ছে না।" পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, "এলাকায় পর্যাপ্ত আলো নেই, অন্যান্য পরিষেবাও নেই। আমরা ক্ষমতায় এলে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। কাউকে আর কষ্ট করে দূর থেকে জল আনতে হবে না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পাঁচ বছর এদের দেখা নেই। ভোট এলেই সব করতে নামছে—জল দেওয়া, বোঝা বওয়া সবই এখন সম্ভব। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর এদের দেখা যাবে না। বাংলার মানুষ এসব বুঝে গিয়েছে, তাই ওদের প্রত্যাখ্যান করছে।”
