প্রার্থী ঘোষণার পরই নোয়াপাড়ায় বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসুর প্রকাশ্যে ক্ষোভ। তার মাঝেই রামনবমীর মিছিলে নোয়াপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের পাশে হেঁটে জল্পনা বাড়ালেন নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং। প্রকাশ্যে অস্বীকার থাকলেও, তাঁর 'ওয়েটিং লিস্ট' মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার গারুলিয়ায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটতে দেখা যায় সুনীল সিংকে। দু'জনকে একান্তে কথা বলতেও দেখা যায়। অর্জুনের পা ছুঁয়ে প্রণামও করেন সুনীল। ভোটের মুখে এই ছবিকে নিছক সৌজন্য বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অনেকের মতে, এটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত।
দলবদল প্রসঙ্গে সুনীল বলেন, "আমি আগেই বলেছি, ওয়েটিং লিস্টে আছি। যেমন ট্রেনের টিকিট ওয়েটিংয়ে থাকলে পরে কনফার্ম হয়, তেমনই কোথাও না কোথাও আমারও কনফার্ম হবে।" এই প্রসঙ্গে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, "দল কাউকেই গুরুত্ব দেয় না, নিজের গুরুত্ব নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়"।
প্রসঙ্গত, গারুলিয়া পুরসভায় দীর্ঘদিন পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন সুনীল। মাঝে একবার উপনির্বাচনে জিতে নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের বিধায়কও হয়েছিলেন। পরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে নোয়াপাড়া থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নোয়াপাড়ার মানুষ ভরসা করতে পারেননি 'দলবদলু' সুনীলকে। পরে ২০২২-এ ফের তিনি তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি। কিন্তু তারপর থেকে সক্রিয়ভাবে দলের কাজে দেখা যায়নি তাঁকে। আচমকা রামনবমীর মিছিলে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে হাঁটতে দেখে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে। জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন সুনীল নিজেই। দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি আগেই বলেছি, ওয়েটিং লিস্টে আছি। যেমন ট্রেনের টিকিট ওয়েটিংয়ে থাকলে পরে কনফার্ম হয়, তেমনই কোথাও না কোথাও আমারও কনফার্ম হবে।" এই প্রসঙ্গে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, "দল কাউকেই গুরুত্ব দেয় না, নিজের গুরুত্ব নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়"।
অন্যদিকে, ভোটের টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম গাজি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দলত্যাগের কথা ঘোষণা করে দেন বিধায়ক। ফেসবুকের দীর্ঘ পোস্টে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তিনি লেখেন, '২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে যাঁরা দলের বিরোধিতা করেছে তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়েছে।' নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেই দলের উপরতলার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকেও চিঠি লিখে দলত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন আব্দুর রহিম। সেই চিঠিও পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রসঙ্গত, চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কাজের ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচনে প্রাধান্য দিয়েছে। এবার বসিরহাটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ছিল বড় চমক। ৭ আসনে ৬টিতেই বাদ পড়েছেন বর্তমান বিধায়করা।
