জঙ্গলমহলের ভোটচিত্রে বড় চমক! পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের কেন্দ্র বাঘমুণ্ডিতে প্রাক্তন আরএসএস কর্মীকে প্রার্থী করে একেবারে চমকে দিল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারি মোর্চা (জেএলকেএম) তথা 'টাইগার' জয়রাম মাহাতোর দল। সদ্যই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তারা। বাঘমুণ্ডি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে মনোজকুমার মাহাতোকে। তিনি প্রাক্তন আরএসএস কর্মী। এছাড়া আরেক কেন্দ্র জয়পুরে প্রার্থী করা হয়েছে সদ্য তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা বা জেএলকেএমে যোগদান করা রাজপরিবারের সদস্য দিবজ্যোতি সিং দেওকে। এই দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহলের নির্বাচনী লড়াই আরও জমজমাট হল বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরুলিয়ার জন্য ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রার্থী তালিকা।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রাক্তন সদস্য ৪৮ বছর বয়সী মনোজকুমার মাহাতো এবার বাঘমুণ্ডি আসন থেকে লড়ছেন জেএমকেএলের হয়ে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৫ সাল থেকে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার সুপ্রিমো তথা ঝাড়খণ্ডের ডুমুরির বিধায়ক জয়রাম মাহাতোর সঙ্গে যুক্ত হন। মনোজের বাড়ি অযোধ্যা পাহাড়ের সাহারজুড়ি গ্রামে। এহেন ব্যক্তিত্বকেই জঙ্গলমহলে শাসক-বিরোধী শিবিরের ভোট কাটতে দাঁড় করিয়েছে 'টাইগার'-এর দল। মনোজকুমার মাহাতো আদিবাসী ও কুড়মি জনজাতির একটা বড় অংশের ভোট পাবেন, তেমনই মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, ছাব্বিশের ভোটে জয়পুর আসনে প্রার্থী হতে না পেরে গত সপ্তাহে তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন জয়পুর রাজপরিবারের সদস্য দিব্যজ্যোতি সিং দেও। একুশের বিধানসভা ভোটেও টিকিট না পেয়ে তৃণমূল বিক্ষুব্ধ হয়ে নির্দলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি জয়পুর ব্লক যুব সভাপতি ছিলেন। তখন ওই পদ ছেড়ে দেন তিনি। ওই নির্বাচনে তৃণমূলের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় পরবর্তীকালে রাজ্য তৃণমূল দিবজ্যোতিকে ভোট দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। এবারও তিনি জয়পুর আসন থেকে শাসকদলের প্রার্থীর দাবিদার ছিলেন। সম্প্রতি ঝালদার তুলিনে জয়রাম মাহাতোর জনসভা থেকে তাঁর হাত ধরে জেএলকেএম-র পতাকা ধরেন এবং তারপরই তাঁকে জয়পুর আসনে প্রার্থী করে জেএলকেএম। তিনিও বেশ কিছু ভোট নিজের ঝুলিতে টানতে পারবেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
