আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট। তার আগে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নোয়াপাড়া। শনিবার দুপুরে থানা চত্বরেই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। থানার পিছনে বসবাসকারী স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার ভিতর থেকেই এই শব্দ শোনা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাড়িগুলিতেধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এতে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে সিঁটিয়ে যান সাধারণ মানুষ। তড়িঘড়ি ছুটে যায় পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড।
শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটা। তীব্র দাবদাহ মাথায় নিয়েই রাস্তায় যাতায়াত করছেন মানুষজন। তার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপও। এর মাঝেই নোয়াপাড়া থানা থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। কারও কারও বাড়িতে স্প্লিন্টার ছিটকে এসে পড়ে। সেসব হাতে নিয়ে দেখান তাঁরা।
ছিটকে আসা স্প্লিন্টার দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা। নিজস্ব ছবি
স্থানীয় এক জুটমিলের কর্মী তথা থানার ঠিক পিছনের বাসিন্দা রাজেশ বাঁশফোড় জানিয়েছেন, ‘‘আমি কাজে গিয়েছিলাম, ছেলে ফোন করে জানাল যে এখানে বিস্ফোরণ হয়েছে। আমি বাড়ি ফিরেই থানায় চলে গেলাম। যে স্প্লিন্টার আমাদের বাড়িতে পড়েছিল, তা দেখিয়েছি পুলিশকে। অফিসাররা বললেন, বম্ব স্কোয়াড আসছে, পরীক্ষা হবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, বিস্ফোরণের আগেই তো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।আমাদের বাড়ি তো থানার দেওয়াল-ঘেঁষা। এখানে বাচ্চারা আছে, যদি কিছু হয়ে যেত!''
নোয়াপাড়া থানা চত্বরে বিস্ফোরণে চারপাশে ধোঁয়া। নিজস্ব ছবি
বিস্ফোরণ নিয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হলেও সঙ্গে সঙ্গে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, থানার ভিতরে কীভাবে এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল? প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন তাঁরা। আরেক বাসিন্দা রোহিত বাঁশফোড়ের প্রশ্ন, ‘‘থানা লাগোয়া এলাকায় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাদের সুরক্ষার কী হবে? এতদিন ধরে এখানে আছি, বিস্ফোরণে এভাবে ভয় কখনও পাইনি।''
আগামী বুধবার নোয়াপাড়ায় ভোট। এবার এই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী অর্জুন সিং। তাঁর বিপক্ষে লড়ছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে তাঁদের এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
