জেলায় পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েই গোপনে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে কমিশন নিযুক্ত আইপিএস পারমার স্মিথ পার্শোত্তমদাসের বিরুদ্ধে। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী সেই গোপন ভিডিওটি প্রকাশ্যে আনেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করার পরই হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন ডেরেক ও ব্রায়েন। তাঁর আবেদন ছিল, যত দ্রুত সম্ভব ওই পুলিশ পর্যবেক্ষককে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। এই মামলার জেরে কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে হাই কোর্ট। শেষ দফা ভোটের (Bengal Election 2026) ঠিক আগে রাজ্যের শাসকদলের এই মামলাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে আদালত। তাতে কমিশন নিযুক্ত পুলিশ অফিসার চাপের মুখে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদার অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে ডায়মন্ড হারবারের একটি সরকারি টুরিস্ট লজে বসে কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক পারমার স্মিথ পার্শোত্তমদাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার ও কয়েকজন বিজেপি নেতা। এর মধ্যে ছিলেন মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী গৌর ঘোষও। অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ সেই বৈঠকের ভিডিও-ও তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন তৃণমূল প্রার্থী।
ঘটনা ঠিক কী? গত ২০ এপ্রিল, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদার অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে ডায়মন্ড হারবারের একটি সরকারি টুরিস্ট লজে বসে কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক পারমার স্মিথ পার্শোত্তমদাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার ও কয়েকজন বিজেপি নেতা। এর মধ্যে ছিলেন মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী গৌর ঘোষও। অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ সেই বৈঠকের ভিডিও-ও তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন তৃণমূল প্রার্থী। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে সভা করতে গিয়ে বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ''ভেবেছিলেন তাঁরা চুপিসারে বৈঠক সেরে ফেলতে পারবেন এবং কেউ টেরও পাবে না। ভেবেছিল ধরা না পড়ে তাঁরা আলাদাভাবে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির হয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু আমি মুখোশ খুলে দিয়েছি। সেই গোপন বৈঠকের ভিডিও আপনারা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে দেখতে পেয়েছেন।''
গত ২৪ তারিখ এনিয়ে মামলা হয় হাই কোর্টে। তাতে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন দাবি তোলেন, ওই পুলিশ পর্যবেক্ষককে অবিলম্বে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরানো হোক। এবার তার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের কাছে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে হাই কোর্ট। কিন্তু তিনদিন কেটে যাওয়ার পরও সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে কিনা, তা জানা যায়নি। ভোট (Bengal Election 2026) শেষের আগে বিষয়টি যথেষ্ট আইনি জটিলতা তৈরি হল বলে মনে করা হচ্ছে।
