ভোট ঘোষণা হতেই ক্রমশ রাজনৈতিক উত্তেজনা চড়ছে জামুড়িয়া বিধানসভার বাহাদুরপুর এলাকায়। তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আঁকা দেওয়াল লিখনে কালি এবং গোবর লেপে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগের তির বিরোধীদের দিকে। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শাসকদলের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের দেওয়াল লিখনের উপর কালি এবং গোবর লেপে দেওয়া হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এই ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে আজ রবিবার তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বাহাদুরপুর অঞ্চলের ২১০ নম্বর বুথ এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী।
ঘটনায় সরাসরি বিজেপি এবং সিপিএমের দিকে আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আদিত্য লাহা। তাঁর দাবি, ''বিরোধীরা হারবে জেনেই রাতের অন্ধকারে এই কাজ করেছে।'' একই দাবি তৃণমূল প্রার্থী, বিধায়ক হরেরাম সিংয়েরও। তাঁর দাবি, ''জামুড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। তাই কিছু লোক এলাকায় অশান্তি তৈরি করতেই এই কাজ করছে। এই বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।'' যদিও এহেন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার বিজন মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ''বিজেপি এখন নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত, অন্য দলের দেওয়ালে কী হল তা দেখার সময় তাঁদের নেই।'' তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ফলেই এই ঘটনা বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর।
অন্যদিকে সরকারি দেওয়ালের তৃণমূলের প্রচার! আর তা মুছতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ। বাংলায় ইতিমধ্যে জারি হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। ফলে 'মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট' এর নিয়ম মেনে সেই দেওয়াল মুছতে যান ওই দুই কর্মী। সেই সময় তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার করঙ্গপাড়ার পোস্ট অফিস এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কমিশনের নির্দেশ মেনে সরকারি দেওয়ালে কোন রাজনৈতিক দলের লিখন থাকলে সেগুলি মুছে দিতে হয়। রবিবার সকালে সেই কাজ করতে যান দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের দপ্তরের দুই কর্মী সূর্যকান্ত পাল এবং বিট্টু গুপ্তা। পোস্ট অফিসের দেওয়ালে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন মুছতে যান তাঁরা। সেই কাজ করার পর যখন তাঁরা ফিরে যাওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠেন, তখনই তাঁদের গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে এলাকার বেশ কয়েকজন। বিট্টু গুপ্তার অভিযোগ," কেন মোছা হয়েছে দেওয়াল বলতে বলতে আমাদের গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। যারা মারছিল তারা নিজেদের তৃণমূল বলছিল।" যা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছুটা বেগ পেতে হয় দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার পুলিশকে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনা প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই জানান, ''এইভাবে জোর জবরদস্তি মারধর করে ভোট করতে চাইছে তৃণমূল। ভোটের মুখে উত্তপ্ত করতে চাইছে এলাকার পরিবেশ।" যদিও এহেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, এই ধরণের ঘটনায় তৃণমূল যুক্ত থাকে না।" দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস জানান, "নির্বাচন কমিশনের যা নির্দেশ তাই মেনে চলা হবে।"
