ভোটের আগেই রণক্ষেত্র ডোমকলের রায়পুর এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) এর মধ্যে সংঘর্ষে রক্তাক্ত ডোমকলের রায়পুর অঞ্চলের মোক্তারপুর কারিগড়পাড়ায়। সংঘর্ষের ঘটনায় জখম উভয় পক্ষের অন্তত চারজন। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। যায় কেন্দ্রীয়বাহিনীও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোউতর।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে তৃণমূল এবং সিপিআইএমের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে অশান্তির ঘটনা ঘটে। প্রথমে বচসা পরে তা ভয়ংকর আকার নেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোমাবাজি করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম সিপিআইএম সমর্থকের নাম রাকিবুল আনসারী (২৮) ও তাঁর বাবা মহবুল আনসারী (৫৫), অন্যদিকে জখম দুই তৃণমূল কর্মীর নাম আমিরউদ্দিন মন্ডল (৫২) ও পুত্র আলামিন মন্ডল (২৩)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সংঘর্ষে জখম চার জনকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করা হয়েছে।
ডোমকলে আক্রান্ত সিপিএম কর্মী।
সিপিআই(এম) প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “রাতে ভোট ক্যাম্পেনিং করে ফেরার সময় উভয় পক্ষের বচসা থেকে হাসুয়া দিয়ে আক্রমন করে তৃণমূল। প্রতিরোধ করলে বিপক্ষেরও জখম দু’জন।” তৃণমূলের রায়পুর অঞ্চলের সহ সভাপতি প্রধান প্রতিনিধি রেন্টু মন্ডল জানান “পাড়া থেকে ফেরার সময় টিপ্পুনি কাটছিল সিপিআইএমের লোকেরা। প্রতিবাদ করলে হাঁসুয়া দিয়ে আক্রমন করে। পাল্টা প্রতিরোধে উভয় পক্ষের জখম চারজন।”
এদিকে ভোটের আগে রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গের মাদিরাহাট এলাকাও। জানা যাচ্ছে, বুধবার রাতে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ওড়াওয়ের উপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মিঠুনকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাদারিহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিজেপির দাবি, রাতে বাড়িতে ঢোকার সময় হঠাৎ করে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর উপর একদল দুষ্কৃতী হামলা করে। বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যুক্ত বলে দাবি বিজেপির। যদিও এহেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
