নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়কে ভবানীপুরের রির্টানিং অফিসার করা হয়েছিল। প্রবল আপত্তি জানায় তৃণমূল। শাসক দলের অভিযোগ ছিল, এই সুরজিৎ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ। কমিশনে অভিযোগ জানায় তৃণমূল। শেষপর্যন্ত সেই চাপে পড়েই ভবানীপুরে নতুন রিটার্নিং অফিসার বা আরও নিয়োগ করা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। তিন অফিসারদের প্যানেল চাওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সেই প্যানেল মুখ্যসচিব কমিশনকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
কমিশন চিঠিতে মুখ্যসচিবকে জানিয়েছে, গত ২৪ তারিখ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১৫৯ নম্বর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সাম্প্রতিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানায়। তাই মুখ্যসচিবকে তিনজন উপযুক্ত অফিসারের প্যানেল, যাঁদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যাবে, তেমন অফিসারদের নাম পাঠাতে বলা হয়। রাজ্যকে না জানিয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী পত্রাঘাত করেছিলেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তার জেরেই এবার রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়োগরে আগে প্যানেল চাইছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে লড়াই করছেন। ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ এবারও ওই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়েছিল। পরে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সুরজিৎ রায়কে নিয়োগ হয়েছেন। এরপরই কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, সুরজিৎ রায় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। তাঁর নির্দেশে ওই অফিসার কাজ করছেন!
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও নির্বাচনে লড়াই করছেন। তাহলে কি ভোট পরিচালনার জন্যই এই বদলি? নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটের সময় সুবিধা করতে মরিয়া বিজেপি? সেই বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তোলেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকেন। প্রার্থীদের নমিনেশন গ্রহণ থেকে নির্বাচনের সময় প্রাথমিক দায়িত্বভার এই অফিসারদের উপরই থাকে।
