অবশেষে রাজ্যের ২৮৪ টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল কংগ্রেস। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন সমিতির বৈঠক হয়। সেখানেই একাধিক আসনে প্রার্থীর নামে শিলমোহর পড়ে। এরপরেই আজ রবিবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হল। জল্পনা সত্যি করেই এবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুর বিধানসভা আসন থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে ভবানীপুর বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ প্রসাদ। রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র এই ভবানীপুর। একদিকে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদকে এবার প্রার্থী করল কংগ্রেস।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুর বিধানসভা আসন থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে ভবানীপুর বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ প্রসাদ।
ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনেও এবার নজর রয়েছে। কারণ এই কেন্দ্র থেকেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী জরিয়াতুল হোসেন। দলের অন্যতম যুব মুখ তিনি। পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন মৌসম বেনজির নূর। গত মাসখানেক আগেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। এমনকী রাজ্যসভার পদ থেকেও ইস্তফা মৌসম। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবার প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা ছিল। অবশেষে মালদহের মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন মৌসম।
এছাড়াও উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া বিধানসভা আসন থেকে এবারও প্রার্থী করা হয়েছে আলি ইমরান রামজ় ওরফে ভিক্টরকে। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মতো মারাত্মক অভিযোগ তোলেন খোদ তাঁর স্ত্রী। এমনকী তাঁকে দল থেকে বহিস্কারের দাবিতে দিল্লিতে সদর দপ্তরে ধর্না পর্যন্ত দেন তিনি। এমনকী রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীকে চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু চালুকিয়া আসনে ভিক্টরের উপরেই আস্থা রাখল দল। পাশাপাশি প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রকেও। তাঁকে বালিগঞ্জ বিধানসভা আসন থেকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। এছাড়াও কংগ্রেসের প্রথম তালিকায় একাধিক এমন নাম রয়েছে, যারা একটা সময় বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে এই তালিকায় নাম নেই প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের।
বলে রাখা প্রয়োজন, প্রায় ২০ বছর পর রাজ্যে ২৯৪ আসনে একক শক্তিতে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেস। দিল্লিতে একযোগে সেই ঘোষণায় খুশি হয়েছিলেন তৃণমূল স্তরের বহু সাধারণ কংগ্রেস কর্মীই। প্রদেশের তরফে রাজ্যজুড়ে কর্মীদের দেওয়াল দখল, রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়। তাতেও উৎসাহ বাড়ে কর্মীদের। কিন্তু সেই ‘খুশি’ বা ‘উৎসাহ’ খানিক ফিকে হয়ে উঠছিল, কারণ প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায়। অবশেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ায় স্বস্তিতে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা।
