প্রচারে অভিনবত্ব আনবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু এমন বাঁধ ভাঙা অভিনবত্ব! তা হয়তো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি আউশগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী। গরুর গাড়ি নিয়ে প্রচারে বেরতেই বিপত্তি। তৃণমূল প্রার্থী গরুর গাড়িতে চড়ে বসতেই বেঁকে বসে গরু। গাড়ি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করতেই হুলস্থুল কাণ্ড। কোনওমতে গরুকে আটকে রাখতে হিমশিম খান গারোয়ানরা। পরিস্থিতি সামলাতে কার্যত বেসামাল তৃণমূল কর্মীরাও।
শনিবার সকালের ঘটনা। দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে বর্ণাঢ্য প্রচারের আয়োজন ছিল আউশগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসাদ লোহার সমর্থনে। প্রচারের অভিনবত্ব আনতে প্রস্তুত ছিল বেলুন, ফুলে মোড়া সুসজ্জিত গরুর গাড়ি। তাতে চেপেই রোড শো করার পরিকল্পনা ছিল তৃণমূল প্রার্থীর। সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শর্মিলা সরকার ও পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুল লালন। একাধিক ট্যাবলো সহ তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে তালে তালে সঙ্গ দিয়েছে ডিজের তাল। তবে কয়েক পা এগোতেই তাল কাটল প্রচারের।
জানা গিয়েছে, প্রচার শুরু হতে না হতেই রীতিমতো হুলস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। প্রচার ছেড়ে বেরনোর জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে গরু দুটি। জোয়ালে বাঁধা অবস্থায় গরুর লাফালাফিতে গাড়ি থেকে পড়ে যান তৃণমূল প্রার্থী। বেসামাল হয়ে পড়েন সাংসদও। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল কর্মীরা প্রাণপণে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আব্দুল লালনের কথায়, "পূর্ব বর্ধমান রাজ্যের শষ্যগোলা। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাংলার কৃষকদের পাশে সবসময়ই থাকেন। তার উপর কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে ডিজেল পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে তাতে আর সাধারণ মানুষ গাড়ি চড়তে ভয় পাচ্ছেন। বিপরীতমুখী এই দুই বিষয় তুলে ধরতে আমরা গরুর গাড়িতে চড়ে প্রচারের ভাবনা নিই।"
ঘটনার পর অবশ্য প্রচার পরিকল্পনায় বদল আনতে বাধ্য হয় তৃণমূল। গরুর গাড়ি থেকে তৃণমূল প্রার্থী ও সাংসদ উঠে পড়েন চারচাকার গাড়িতে। বাকি রোড শো হয় গাড়িতেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে এলাকাজুড়ে।
