আগামী বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি, নাকাচেকিং চলছে। সেই নাকাচেকিংয়েই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হল হুগলিতে। পাশাপাশি মিলেছে একাধিক এটিএম কার্ড। গাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে বিজেপির বেশ কিছু দলীয় পতাকা। তাহলে কি ভোটের আগে বিজেপি টাকা ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল? সেই জল্পনা আরও উসকে গিয়েছে। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্রের সোমসপুর দক্ষিণ শিমলা গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল রাতে এলাকায় একটি সাদা গাড়ি ঘুরছিল। গাড়িটি এলাকার নয় বলেই সন্দেহ বেড়েছিল। গ্রামবাসীরাই পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ওই গাড়িটিকে আটক করে। গাড়িতে চালক-সহ তিনজন ছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথায় একাধিক অসঙ্গতি উঠে আসে। এরপরই গাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি থেকে মোট ২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ওই বিপুল পরিমাণ টাকা খামের মধ্যে রাখা ছিল। সবক'টিই ৫০০ টাকার নোট। ওই টাকা কী জন্য গাড়ির মধ্যে রয়েছে? সেই বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁদের থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এরপরই ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওই তিনজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, গাড়ির চালক স্থানীয় হলেও অন্য দু'জন অসমের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, ওই গাড়ির ভিতর বিজেপির বেশ কয়েকটি দলীয় পতাকাও মিলেছে।
এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। তাহলে কি অসম থেকে ওই টাকা নিয়ে আসা হয়েছিল? ভোটের আগে বিজেপি এলাকায় রাতের অন্ধকারে টাকা ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল? তৃণমূল এই বিষয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অসীমা পাত্রের অভিযোগ, "ভোট কেনার জন্য গ্রামে ভোটারদের টাকা বিলি করতে এসেছিল বিজেপি। গ্রামবাসীরা জানতে পেরে তাঁদের আটকায়।" যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ গায়ে মাখতে নারাজ। পালটা তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী দাস বলেন, "তৃণমূলের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূলের দুর্নীতির টাকা তারা ভোটের আগে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের অন্ধকারে বিলি করছে। এর প্রতিবাদ জানাই।"
